Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

কলকাতার দূষণও মারাত্মক, ফুসফুস বাঁচাতে কলা খান

দূষণের নিরিখে কলকাতা দ্বিতীয় স্থানে, দিল্লির পরেই। গবেষণা এমনও বলছে যে, ২০২৩ সালে এ রাজ্যে বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা বা অ্যারোসলের মাত্রা ৮ শতাংশ বেড়ে যাবে যা রাজ্যবাসীর কাছে মোটেই সুখকর হবে না।

কলকাতার দূষণও মারাত্মক, ফুসফুস বাঁচাতে কলা খান

শেষ আপডেট: 3 November 2023 19:52

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণে জর্জরিত দিল্লি, পিছিয়ে নেই কলকাতাও। সারা দেশে প্রতি বছর প্রায় দু’কোটি মানুষ বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে একটা বড় অংশের মানুষ এ রাজ্যেরও। বাংলায় বাড়তে থাকা দূষণ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। রাজ্য পরিবেশ দফতরও জানিয়েছে, কলকাতা সহ এ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। দূষণের নিরিখে কলকাতা দ্বিতীয় স্থানে, দিল্লির পরেই। গবেষণা এমনও বলছে যে, ২০২৩ সালে এ রাজ্যে বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা বা অ্যারোসলের মাত্রা ৮ শতাংশ বেড়ে যাবে যা রাজ্যবাসীর কাছে মোটেই সুখকর হবে না।

ভারতের শহরগুলির মধ্যে নয়, বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, সবচেয়ে দূষিত বায়ু কলকাতা ও দিল্লি এই দুই শহরেই। বায়ুদূষণ যে-হেতু চোখে দেখা যায় না, ফলে তার ক্ষতির পরিমাণটি বোঝা কঠিন।  শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (পিএম)-গুলি খুব সহজে মিশে যেতে পারে। কিন্তু যদি পিএম কণাগুলির ব্যাস বেশি হয় তাহলে বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে সময় লাগে বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাড়ি, ট্রাক, অগ্নিকাণ্ড, ফসল পোড়ানো ও কারখানার চিমনি থেকে এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষ-বাস্প তৈরি করে। শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা থেকে ক্যানসার, হার্টের রোগ, বহু প্রাণঘাতী অসুস্থতার জন্য বায়ুদূষণ প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী।

দূষণ থেকে ফুসফুস বাঁচাতে কলা খান

প্রযুক্তি-পরিবেশবিদ সোমেন্দ্র মোহন ঘোষ বলছেন, দূষণ থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক পরা খুব জরুরি।

এমন খাবার খেতে হবে যা শরীরে পুষ্টির চাহিদা মেটায়।

ফলমূল একটু বেশি খাওয়া ভাল যাতে ফাইবার আছে।

যাঁরা বেশি দূষণ কবলিত এলাকায় কাজ করেন তাঁদের নিয়মিত কলা খেলে খুব ভাল। শ্বাসের সঙ্গে যে দূষিত কণা শরীরে ঢুকছে তা প্রথমে গলার কাছে জমে থাকে। সূক্ষ্ম অ্যারোসল কণা মিউকাসের সঙ্গে মিশে ফুসফুশে ঢুকলে তা সিভিয়ার হাঁপানির কারণ হতে পারে। কলা খেলে গলা থেকে সেই দূষিত কণা সহজেই নেমে যায়। ফলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

পটাশিয়াম ফুসফুসের জন্য খুব ভাল। দেখা গিয়েছে পটাশিয়াম নিয়মিত শরীরে গেলে গুরুতর ফুসফুসের সমস্যার সমাধান সম্ভব। কলায় রয়েছে ভাল পরিমাণে পটাশিয়াম। ফুসফুসের রোগ, সিওপিডি থেকে বাঁচতে তাই এই সময় নিয়মিত কলা খেতে পারেন।

দিনভর বাইরে কাজ করছেন তাঁরা সঙ্গে অবশ্যই কাশির ওষুধ রাখবেন।

অ্যান্টিবায়োটিক সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে রাখবেন।

সারাদিন পাথর ভাঙার কাজ, গ্রাইন্ডিং মেশিনে কাজ করছেন যাঁরা বা মেটাল পালিশ, রাজমিস্ত্রীর কাজে নির্মীয়মাণ স্থলে বহুক্ষণ থাকতে হচ্ছে তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কাজের সময় অবশ্যই ফেস-মাস্ক পরে থাকতে হবে। দিল্লিতে যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪০০ ছাড়িয়েছে, সেখানে কলকাতাও পিছিয়ে নেই। আজ শুক্রবারই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গুণগত মান ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। কালীপুজোর সময় তা ৪০০ ছাড়াবে বলেই জানিয়েছেন সোমেন্দ্রবাবু।

দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমাণে অ্যারোসল কণা জমা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, তার পরিমাণ উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গেছে। ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের স্তর গত চার বছরে এতটাই পুরু হয়ে গিয়েছে যে, তা বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার থেকে পৌঁছে গিয়েছে তার উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও। পশ্চিমবঙ্গের বাতাসে এই অ্যারোসল বা ভাসমান দূষিত কণার মাত্রা ০.৫, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণই ক্ষতিকর। এখনই অ্য়ারোসল দূষণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ রেড ক্যাটাগরিতে আছে। ২০২৩ সালে অ্যারোসলের মাত্রা ৮ শতাংশ বাড়লে এওডি-তে তার পরিমাণ হবে ০.৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, নির্মাণস্থলগুলি থেকে যে পরিমাণ ধুলোবালি বাতাসে মিশছে তার পরিমাণও কম নয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শহরগুলির রাস্তার পাশের বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্টে জ্বালানি কারণেও দূষণ বাড়ছে। পরিবেশবিদ বলছেন, এখন থেকেই সচেতন না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি দিল্লির মতোই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।


```