
কলকাতা মেট্রোয় বয়স্ক দম্পতি। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 August 2024 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের ৫০ বছর পার করতে পারলে মিলবে পুরস্কার! খাস কলকাতা শহরের বুকেই এমন এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। চতুর্দিকে বিচ্ছেদের আবহে, বিয়ে টিকিয়ে সংসার বাঁচিয়ে রাখায় উৎসাহ দিতেই এই পুরস্কার বলে জানা গেছে।
বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের যে গরিমা ছিল আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও, তা যেন বর্তমানে অনেকটাই ফিকে হয়েছে। সারা বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিষয়গুলির মধ্যে 'বিয়ে' ব্যাপারটাও ঢুকে গিয়েছে। একটা সময় পর্যন্ত নারী ও পুরুষের একসঙ্গে সংসার করতে শুরু করার ছাড়পত্র হিসেবে যে বিয়েকে দেখা হতো, এখন আর তা নয়। অনেকেই মনে করেন, একসঙ্গে থাকার জন্য আর বিয়ের দরকার নেই, আবার বিয়ে করলেই যে একসঙ্গে থাকতেই হবে, তারও মানে নেই।
এই অবস্থায়, বিয়ে না টেকা নিয়ে আক্ষেপ-আফশোসও অনেক বেড়ে গেছে ইদানীং। অনেকের মুখেই শোনা যায়, আজকাল কথায় কথায় বিয়ে ভেঙে দেন দম্পতিরা। কেউ আবার বলেন, ডিভোর্স যেন এখন এক 'ফ্যাশন'! তবে কয়েক বছর আগে পর্যন্তও এমনটা ছিল না। তাই ২৫-৩০-৪০ এমনকি ৫০টা বছর ধরে একসঙ্গে ঘর করা দম্পতির খোঁজ এখনও পায়ই মেলে আশপাশে। হয়তো তুমুল মতবিরোধ হয়েছে, ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে, রাগ করে আলাদা থাকাও হয়েছে, তবে বিয়ে ভেঙে ছেড়ে চলে যাননি তাঁরা একে অপরকে। ভালবাসা-রাগারাগি মিলিয়েই পার করেছেন বিয়ের গোল্ডেন জুবিলি।
এবার সেই গোল্ডেন জুবিলি পার করা দম্পতিদেরই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। ‘স্বর্ণ সঙ্গী সম্মান’ নামের এই অভিনব পুরস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার। এই বিষয়ে একটি উৎসব কমিটিও গড়া হয়েছে, যার শীর্ষে রয়েছেন কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষ বিশ্বাস।
জানা গেছে, একটি প্রতিযোগিতার আদলে বসবে এই অভিনব পুরস্কারের আসর। তবে স্বপন সমাদ্দারের কথায়, 'এ প্রতিযোগিতায় নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরাই খুঁজে বের করছি এমন যুগলদের। টানা অর্ধ শতাব্দী ধরে সংসার করার পুরস্কার প্রাপ্য বইকি। অন্তত এদের দেখে নতুন প্রজন্ম যদি একটু শিক্ষা নেয়!'
১৫ আগস্ট বিকেলে গুরুদাস রোডে পুরস্কত হবেন সোনালি জুটিরা। ইতিমধ্যেই পুরস্কারের মানপত্র তৈরি করা হয়েছে। যেখানে লেখা আছে, “অবিচ্ছেদ্য জীবনসঙ্গী রূপে পারস্পরিক বিশ্বাস শ্রদ্ধা ভালোবাসার ভিত্তিতে সুগঠিত আপনাদের সমধুর সম্পর্ক বর্তমান সমাজ জীবনে উজ্জ্বল আদর্শ স্বরূপ।” এই মানপত্রের পাশাপাশি পুরস্কত দম্পতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ফলের ঝুড়ি, মিষ্টি ও একরাশ উপহার।