
নিউ মার্কেট চত্বর - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 2 December 2024 14:32
কয়েক মাস আগেই শহরজুড়ে বেআইনি হকার উচ্ছেদ নিয়ে অভিযান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে সরানো হয়েছিল অবৈধ হকারদের। এই অভিযানে আমূল পরিবর্তন হয়েছিল ধর্মতলার নিউ মার্কেট চত্বরে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানকার অবস্থা কার্যত আগের মতোই হয়ে গেছে। এই নিয়ে নতুন করে নির্দেশ দিতে পারে পুরসভা।
হকার উচ্ছেদ অভিযান হলেও পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানবিক হয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় নতুন করে দোকান করতে দিয়েছিলেন। পুরো ফাঁকা করতে দেওয়া হয়নি এলাকা। তবে সেই সময়ে যারা ফুটপাতে দোকান করেছিলেন তারা আবার পিচের রাস্তায় উঠে এসেছেন। যদিও গোটা নিউ মার্কেটজুড়ে এমন পরিস্থিতি নেই। কিছু জায়গা আগের মতো ফাঁকা থাকলেও অন্য একটা বড় অংশের রাস্তায় ফের হকারদের দেখা যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার টাউন ভেন্ডিং কমিটির একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস কুমার সহ হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তিনদিনের মধ্যে নিউ মার্কেটের রাস্তায় বসা হকারদের সরতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে নিউ মার্কেট থানাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার সেই সময়সীমা শেষের পর দেখা গেছে, ওই চত্বরে রাস্তার ওপরের দোকান কিছুটা ফাঁকা হলেও পুরোটা হয়নি। এই বিষয় নিয়ে সোমবারই বৈঠক করতে পারেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠক হলে তা থেকে কী নির্দেশ আসে সেটাই এখন দেখার।
হকার উচ্ছেদের অভিযানের সময়ে নিউ মার্কেট চত্বরে স্থায়ী ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন নিউ মার্কেটের স্থায়ী ব্যবসায়ীরা। এখানে যেমন প্রচুর স্থায়ী ব্যবসায়ী রয়েছেন, তেমনই রাস্তার উপর পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করেন অগুন্তি হকারও। তবে সেই হকারদের নিয়ে সরকারের নির্দেশের পরই অশান্তি দেখা গেছিল।
এখন আবার নতুন করে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে চলেছে নিউ মার্কেট এলাকায়। কারণ পুজোর কারণেই নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছিল পুরসভা। তবে অভিযোগ, সেই সুযোগেই এখন অনেক হকার ফের রাস্তা দখল করে নিয়েছেন। তৃণমূলের সংগঠনের এক নেতা অবশ্য বলছেন, অন্য সংগঠনের সদস্য হকাররাই নিয়ম মানতে চাইছেন না। এদিকে সেগুলি সরিয়েই রাস্তা ফাঁকা করে ওই এলাকাকে আবার আগের মতো পয়-পরিস্কার করতে চাইছে প্রশাসন।