
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 November 2024 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে গুলি করে মারার চেষ্টার নেপথ্যে তবে কি ওই ১২০ বিঘার ভেড়ি? সোমবারই সাংবাদিক বৈঠক থেকে এ ব্যাপারে বড় প্রশ্ন তুলেছিলেন সুশান্ত ঘোষ।
তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে গুলশন কলোনিতে দেখা গেল ভূমি সংস্কার দফতরের কর্তাদের। রীতিমতো ফিতে নিয়ে জমির মাপজোকও করতে দেখা যায় তাঁদের। সূত্রের খবর, তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্তর অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে বলেই মনে করছেন সরকারি কর্তারা। ইতিমধ্যে তদন্তে গিয়ে তাঁরা ওই ভেড়ি সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু জবর দখল জমি চিহ্নিত করেছেন বলেও খবর।
গত শুক্রবার সন্ধেয় কসবায় অ্যাক্রোপলিস মলের অদূরে নিজের বাড়ির সামনে আততায়ী হামলার মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। বন্দুক থেকে গুলি বের না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান সুশান্ত। পিছু ধাওয়া করে যুবরজ সিং নামে এক অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে ওই ঘটনায় এক ট্যাক্সি চালক এবং আফরোজ ওরফে গুলজার খানকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দমন শাখা।
গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে পুলিশের কাছে আফরোজের দাবি, সুশান্ত ঘোষের অনুগামী হায়দার সম্প্রতি তাঁর জমি দখল করে ফ্ল্যাট বানানোর উদ্যোগ নেয়। এটা মানতে পারেনি আফরোজ। কিন্তু কাউন্সিলরের ভয়ে কিছু করতে না পেরে মুঙ্গের থেকে সুপারি কিলার ভাড়া করে সে। চক্রান্ত করে সুশান্ত ঘোষকে ‘দুনিয়া’ থেকে সরিয়ে দেওয়ার।
পাল্টা সাংবাদিক বৈঠকে আফরোজের অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ দাবি করেছিলেন, "রুবির পাশে যে গুলশন কলোনির কথা বলা হচ্ছে, ওখানে একটা দেড়শ বিঘার ভেড়ি আছে। ২০২১ সালে প্রচুর মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি ছিল, ২২ এর ভোটের পর ভেড়িতে কাজ করতে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি জিতে যাওয়ায় যারা টাকা তুলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা সমস্যা পড়ে যায়। আমি ওই ভেড়ি বন্ধ করে দিই। কিছু জমি ভরাট করা হচ্ছিল, সেটাও আটকে দিই। তাই অনেকের স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলেই আমাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।"
তৃণমূল কাউন্সিলর এও বলেন, "গত ১৫ বছরে ওখানে অনেক সরকারি জমি দখল করে বাড়ি হয়েছে। তার দায়ভার আমি নেব না। আমি আড়াই বছর এসেছি। চেষ্টা করেছি জলাশয় ভরাট যাতে না হয়। তবে একথাও ঠিক, বেআইনি কাজ বন্ধ করার ক্ষমতা পুর প্রতিনিধির হাতে নেই। এটা আটকাতে পারে পুলিশ।"
এরপরই এদিন বেলায় গুলশন কলোনিতে হাজির হয়েছেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কর্তারা।