কসবায় এক বহুতলের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম একমাত্র পুত্র।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 June 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবায় এক বহুতলের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম একমাত্র পুত্র। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। তবে পারিবারিক অশান্তি ও আর্থিক অনটনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা।
রাজডাঙার গোল্ড পার্ক এলাকার ওই বহুতলের তৃতীয় তলায় থাকতেন ৭০ বছরের সরোজিৎ ভট্টাচার্য, ৬৮ বছরের গার্গী ভট্টাচার্য এবং ৩৮ বছরের আয়ুষ্মান ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ স্থানীয় থানায় খবর আসে, সকাল থেকে ওই ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ। কেউ দরজা খোলেননি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে এই আত্মহননের সিদ্ধান্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলছে। নিচতলার এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, “গত কিছুদিন ধরেই ওই দম্পতির মধ্যে প্রবল অশান্তি হত। পাঁচ-সাত দিন ধরে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু কখনও বাইরের কারও সঙ্গে কিছু আলোচনা করতেন না ওঁরা।”
এক স্থানীয় মুদি দোকানদার বলেন, “ওঁরা খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সামান্য করে জিনিস কিনতেন। ধার দিতাম না কখনও। দরকারে জিনিস ফেরত দিয়ে যেতেন, কিন্তু বাকি রাখতেন না।”
তদন্তে উঠে আসছে আর্থিক টানাপোড়েনের কথাও। ওই পরিবারের কোনও আয় ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে মানসিক চাপ, রোগভোগ কিংবা ছেলের শারীরিক অবস্থার কারণেই কি এমন চরম সিদ্ধান্ত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মহত্যার সম্ভাবনার পাশাপাশি, কেউ কি মানসিকভাবে এই পরিবারের উপর প্রভাব ফেলেছিল, কিংবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। তার উপর তদন্ত চলছে।