
শেষ আপডেট: 9 January 2024 23:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীঘাট মন্দির মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সরু গলির দুদিকে ডালার দোকান। ভক্তদের ভিড় বেশি হলে জায়গা থাকে না তিল ধারণের। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত কালীঘাট মন্দির দর্শনে আসেন। দুশো বছরের বেশি পুরনো সেই মন্দিরই নতুন সাজে সাজছে। তৈরি হচ্ছে স্কাইওয়াক। সোনার পাতে মুড়ছে কালীঘাট মন্দিরের তিনটি চূড়া। ২০২৪-এর এপ্রিলের মধ্যেই কালীঘাট স্কাইওয়াকের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণেশ্বরের আদলে কালীঘাটে তৈরি হচ্ছে স্কাইওয়াক। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখে কালীঘাট মন্দিরে প্রচুর ভিড় হয়। সূত্রের খবর, চলতি বছরে পয়লা বৈশাখে স্কাইওয়াক ব্যবহার করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল কালীঘাট স্কাইওয়াকের কাজ। তবে কালীঘাটের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় মাটির নীচে থাকা ব্রিটিশ আমলের পাইপ লাইন, নিকাশির পাইপ অক্ষত রেখে সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা অসম্ভব ছিল। মাঝে রিলায়েন্সকেও কিছু কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে রিলায়েন্সই কালীঘাট মন্দিরের সমস্ত কাজ করছে এমনটা ঠিক নয় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
গত বছরের জুন মাসে কালীঘাট মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব পায় রিলায়েন্স গোষ্ঠী। গত নভেম্বরে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে বিষয়টি খোলসা করেন স্বয়ং মুকেশ আম্বানি। তবে মেয়রের কথায়, রিলায়েন্স নয়, রাজ্য সরকারই নতুনভাবে কালীঘাট মন্দির সাজাচ্ছে। শুধুমাত্র কালীঘাটে পরিকাঠামো তৈরির জন্যই ইতিমধ্যে সরকারের তরফে ১৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, স্কাইওয়াকের জন্য সবমিলিয়ে প্রায় ১১২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার এবিষয়ে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এবছর এপ্রিল মাসে স্কাই ওয়াকের কাজ শেষ হয়ে যাবে। সব রিলায়েন্স করছে, এমনটা ঠিক নয়। ওরা সোনার মুকুট লাগাতে পারে। কিন্তু কালীঘাট মন্দির সংস্কারের সিংহভাগ কাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকার করছে।
বর্তমানে বিগ্রহের গর্ভগৃহ, ভোগঘর, নাটমন্দির, শিবমন্দির, কুণ্ডুপুকুর থেকে শুরু করে মন্দিরের চাতাল, ভিতর এবং বাইরের প্রাচীর সহ গোটা মন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে জোরকদমে। গত কালীপুজোর পর থেকে মূল মন্দির ও গর্ভগৃহ সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়।