
শেষ আপডেট: 5 October 2024 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কাণ্ডের প্রতিবাদে দ্বিতীয়বারের কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার পর ধর্মতলায় অবস্থানে বসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। শুক্রবারই তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশন শুরু করবেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ার মুহূর্তে নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ, ঠিকমতো মঞ্চ বাঁধতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে কয়েক দফা বচসাও হয় ডাক্তারদের।
ডোরিনা ক্রসিংয়ে তাঁদের লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চলবে, এমনটা স্পষ্ট করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। কিন্তু এর মধ্যেই লালবাজারের তরফে মেল করে তাঁদের অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। যদিও এর পাল্টা মেল করেননি জুনিয়র ডাক্তাররা। বরং তাঁদের অভিযোগ ছিল, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্যে ঢুকে তাঁদেরই এক সতীর্থকে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে নিয়ে গেছে পুলিশ। মারা হয়েছে লাথিও। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এই দাবিতে ফের অবস্থানে বসেন তাঁরা।
কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে শুক্রবার রাত থেকেই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। ঘটনার জেরে পুজোর মধ্যে অবরুদ্ধ জনবহুল ধর্মতলার একাংশ। পুজোতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে এবং যান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হবে এই যুক্তি দিয়েই পুলিশ জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্না তুলতে বলে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এমন ভাবনা নেননি জুনিয়র ডাক্তাররা। বরং কথা মতো অনশনে বসার প্রস্তুতি শুরু করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
১০ দফা দাবি করে দ্বিতীয়বারের জন্য কর্মবিরতিতে গেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। কিন্তু পুজোর মুখে সেই কর্মসূচিতে কতটা লাভ হবে তা নিয়ে সংশয় ছিল। কারণ মহালয় থেকেই মানুষের 'উৎসবে ফেরার' ইঙ্গিত মিলেছে। একাধিক পুজো মণ্ডপে দেখা গেছে ভিড়। তাই সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং নিজেদের মধ্যেও জিবি বৈঠক করে সেই কর্মবিরতি তুলে নেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তবে আন্দোলন যে চলবেই তা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন। এমনকী পুজোর মধ্যে আন্দোলন কোন পথ চলবে তা নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। শনিবার সরকারকে দেওয়া 'ডেডলাইন' পার হলেই সেই নিয়ে ঘোষণা হতে পারে।