
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 21 October 2024 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর শেষমেশ আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। নবান্নে বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল এদিন ধর্মতলার মঞ্চে ফিরে আসেন। তাঁদের ফোরামের জেনারেল বডির বৈঠক হয়। তার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে অনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ধর্মঘটের ডাকও তাঁরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
সূত্রের মতে, সরকার যেমন অচলাবস্থা কাটাতে মরিয়া ছিল, তেমনই জুনিয়র ডাক্তাররা অনশন প্রত্যাহারের জন্য একটা পথের সন্ধান করছিলেন। ট্র্যাক টু আলোচনার পর সেই দরজা খুলে যায়। তার ভিত্তিতেই শনিবার ধর্মতলায় ডাক্তারদের আন্দোলন মঞ্চে যান মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের তাঁরা ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। নবান্নের ওই সূত্রের মতে, ওই ঘটনাই ছিল মাইলফলক।
এদিন বিকেলে নবান্নে যে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যে বৈঠক হয়েছে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। তাতে ডাক্তারদের বক্তব্য যেমন, স্পষ্ট করে আরও একবার জানা যায়। তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কখনও তাঁদের বাবা-বাছা করে কথা বলেন। কখনও বা কঠোর শব্দে বুঝিয়ে দেন সব দাবিই মানা যাবে না। সঙ্গত অসঙ্গত বলে একটা ব্যাপার রয়েছে।
ওই বৈঠকের পর অনশন মঞ্চে ফিরে আসেন দেবাশিস-অনিকেতরা। পরে সাংবাদিক বৈঠকে দেবাশিস বলেন, নবান্নের বৈঠকে তাঁরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। মানবিকতার কমতি ছিল। তা ছাড়া প্রশাসনের শারীরিক ভাষা ছিল হুমকি দেওয়ার মতো। সেই কারণেই পুরনো পরীক্ষার কথা চেক করার কথা বলা হয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, জুনিয়র ডাক্তাররা পোড় খাওয়া রাজনীতিক নন। সরকার তাঁদের সব দাবি না মানলেও তাঁরা অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাতে যাতে মনে না হয় যে তাঁরা দমে গিয়েছেন, সেই কারণেই এদিন উচ্চস্বরে কিছু কথা বলতে চেয়েছেন। এও বোঝাতে চেয়েছেন তাঁদের নৈতিক জয় হয়েছে। সেই কারণে তাঁরা অনশন প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে কোনও কৃতিত্ব দিতে চাননি। বরং অনশন মঞ্চে ডেকে আনা হয়েছে নির্যাতিতার বাবা-মাকে। তার পর জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার বাবা-মা অনুরোধ করেছেন তাঁরা যেন অনশন তুলে নেন। তাঁরা একজন সন্তানকে হারিয়েছেন। আর কারও কোনও ক্ষতি হয়ে যাক তা তাঁরা চান না। বরং জুনিয়র ডাক্তাররা যে এত বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছেন সেটাই ইতিবাচক।