
অনিকেত মাহাতো
শেষ আপডেট: 24 December 2024 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতীকী মেরুদণ্ড নিয়ে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। লালবাজার অভিযান হয়েছিল। তা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল শহর। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, পুলিশের মেরুদণ্ড নেই। তারা তদন্তে গাফিলতি করছে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের চাপে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। বর্তমানে সিবিআই-এর মেরুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রতিবাদীরা।
আরজি কর কাণ্ডের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো। এক সময় যিনি পুলিশের দক্ষতা এবং ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আরজি কর ঘটনার তদন্তে সিবিআই-এর দাবি জোরালো করেছিলেন, তিনিই এখন সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। প্রশ্ন তুললেন, ১০০ দিন পার হয়েছে নৃশংস ঘটনার। এতদিন ধরে সিবিআই তদন্তও করছে। কিন্তু আদতে তাঁরা কী করছেন?
অনিকেতের বক্তব্য, ''কলকাতা পুলিশের অসদর্থক ভূমিকা দেখে, অপদার্থতার ভূমিকা দেখে সিপিকে মেরুদণ্ড দিয়ে এসেছিলাম। বলেছিলাম, মেরুদণ্ড সোজা করতে। সেই মেরুদণ্ড আজকে সিবিআই-এর কাছে আসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।'' দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা, তার যদি আজ এই অবস্থা হয় তাহলে বিচারের কী হবে, কার্যত এই প্রশ্নই তুলেছেন অনিকেত।
সম্প্রতি সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আরজি করের যে সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি ছাত্রীর দেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ধস্তাধস্তির কোনও প্রমাণ নেই। অর্থাৎ সেমিনার হল ক্রাইম সিনই নয়। তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। ইতিমধ্যে দু'জনেই জামিনে মুক্ত। সব মিলিয়ে সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েই হাজারো প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে পরপর দু-দিন সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান হয়েছে। একাংশের অভিযোগ, কলকাতা পুলিশ সিবিআই-কে কার্যত রক্ষা করছে। আর সিবিআই খুনিদের রক্ষাকর্তা হয়েছে। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্স অভিযানে পোস্টার পড়েছিল 'ইডি-সিবিআই চোরে চোরে মাসতুতো ভাই...ফনা আছে, বিষ নাই... বাংলা ছেড়ে নাও বিদায়!' মঙ্গলবারও কার্যত একই রকম পোস্টার দেখা যায়। তাতে লেখা, 'সিবিআই সঠিক বিচার দাও, নইলে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি যাও।'