সোমবার মামলার শুনানিতে তিনি বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, "এই দুর্নীতি ক্যানসারের মতো। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে ধ্বংস হবে। এক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।"

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 22 September 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "বোর্ডের অবস্থান ও বোর্ড প্রেসিডেন্ট এর বয়ান অনুযায়ী স্পষ্ট যে দুর্নীতি হয়েছে। সিলেকশনের ক্ষেত্রেও বেনিয়ম হয়েছে।" ৩২ হাজার (32000 Job Case) চাকরি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) জানালেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সোমবার মামলার শুনানিতে তিনি বলেন, "এই দুর্নীতি ক্যানসারের মতো। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে ধ্বংস হবে। এক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।"
এদিন বিকাশরঞ্জন বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, "বোর্ডের পেপারবুকটা দেখুন। আমি এই কার্যকলাপ ও ও বোর্ডের সাবমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ফলাফল প্রকাশ। মেরিট লিস্ট বা স্কোর কার্ড কাউকে দেওয়া হয়নি।"
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ নোটিস প্রকাশিত হয় ৩২০০০ শূন্যপদে নিয়োগের। ওই নোটিসে মেরিট প্রার্থীদের নিয়োগের কথা বলা হয়। কোনও প্যানেল, মেরিট লিস্ট, র্যাঙ্ক, ক্যাটাগরিক্যালি মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়। বিকাশ বলেন, সেই তালিকা জনসমক্ষেও আনা হয়নি। বৃহত্তর দুর্নীতি হয়েছে।
এরপর বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ নিয়েও যদি প্রশ্ন থাকে সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে কোথায়?
বিকাশরঞ্জন উত্তরে বলেন, "ইনস্টিটিউশনাল করাপশন। ২৬ সেপ্টেম্বর এর নোটিস অনুযায়ী আবেদনকারীদের নিয়োগ করা দরকার ছিল। একাংশ অপ্রশিক্ষিতদের সঙ্গে বেনিয়ম হয়েছে। সিস্টেমের পবিত্রতা বজায় রাখা দরকার। এটা সিস্টেমেটিক ফ্রড। প্যানেলে না থেকেও একাংশ প্রার্থীকে ডাকা হয়েছিল। একজন বিধায়কের নাম উঠেছিল যিনি প্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছেলিন।"
বিকাশ আরও বলেন, "বিধায়ক, সাংসদরাও এই দুর্নীতিতে জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন আবেদনকারী। এটা অসংবিধানিক। র্যাঙ্ক জামপিং কতজন ছিল তা প্রকাশ করা হোক। ২৪ অগস্ট ২০২২ বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নিজের দায় ঝেড়ে ফেলেন। কোনও ভুল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হতে পারে না। বোর্ড কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।"
২০২৩ সালে আদালত নির্দেশ দেয় ইন্টারভিউয়ারদের তালিকা প্রকাশ করতে বোর্ডের কাছে তা ছিল না বলে দাবি করেন বিকাশরঞ্জন। তিনি বলেন, "রাজ্য যদি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাহলে ট্রান্সপারেনসি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাজ্য সরকার কখনও নম্বর, প্যানেল, মেরিট লিস্ট, র্যাঙ্ক জনসমক্ষে প্রকাশের বিষয়ে ভাবেইনি। যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সেখানে কর্তৃপক্ষ বলছে আদালত নির্দেশ দিলে তবেই তাঁরা উত্তর দেবে। আরটিআই করা হয়েছিল। নিয়োগের নোটিফিকেশনটা দেখুন। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, নোটিফিকেশন ইস্যু। ওই দিনই রিল্যাকসেশন এন্ড। তাহলে তো কেউ অ্যাপ্লাই করতে পারবে না নিয়ম অনুযায়ী।"
বিকাশ বলেন, "শুধুমাত্র টাকার আদানপ্রদানই দুর্নীতি নয়। বোর্ড সিলেকশন কমিটি গঠন করবে যারা বোর্ডের প্যানেল তৈরির দায়িত্বে থাকবে। এগুলো কিছুই হয়নি। সিলেকশন কমিটি এখন ভ্যানিশ। বোর্ড তার হলফনামায় জানিয়েছে, এটা জেলাভিত্তিক নিয়োগ। জেলা কাউন্সিল এই দায়িত্ব পালন করেছে। পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট হলে বোর্ডকে আরও দায়িত্বশীল হতে হয়। বোর্ড নিজস্ব রুলই অনুসরণ করেনি। একজনও মেরিট জাম্পিং থাকলে তা সামনে আসা প্রয়োজন। দুর্নীতির কারণেই সিবিআই তদন্ত হয়েছে। সিবিআই চার্জশিট ফাইল করেছে। উচ্চ কর্তৃপক্ষ কাস্টডিতে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এর দুর্নীতি মানবাধিকার কেড়ে নেয়। মানুষ তার কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলবে এর ফলে। দুর্নীতি ক্যানসারের মতো। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে ধ্বংস হবে। এক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।" ২৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি।