সূত্রের খবর, মেয়েটির দেহ আলমারির ভেতরে একটি হ্যাঙারে আংশিকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মৃত স্কুলছাত্রী
শেষ আপডেট: 21 October 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুরে আলমারির (Alipore Death Case) ভিতর থেকে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিক ময়নাতদন্ত (Post Mortem) রিপোর্ট সামনে এল। রিপোর্ট দেখে তদন্তকারীরা আত্মহত্যারই (Suicide) ইঙ্গিত পেয়েছেন। সূত্রের খবর, মেয়েটির দেহ আলমারির ভেতরে একটি হ্যাঙারে আংশিকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বছর দশেকের স্কুলছাত্রীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতার বাবা ভোলা সিংহ এবং সৎমা পূজা রায়কে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মৃত স্কুলছাত্রী ছিল আলিপুর থানার বিদ্যাসাগর কলোনির বাসিন্দা। তাঁর বাবা ভোলা পেশায় নিরাপত্তারক্ষী, আর সৎমা পূজা কলকাতা পুলিশের কর্মী। বছরখানেক আগে ভোলার প্রথম স্ত্রী ববিতা রায় মারা যান। ববিতা ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক খুন-ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের দিদি। পরে ভোলা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন পূজার সঙ্গে— যিনি আবার সঞ্জয়ের ছোট দিদি।
সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে পূজা প্রথমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর আলমারির মধ্যে হ্যাঙারে ঝুলন্ত অবস্থায় সুরঞ্জনার দেহ উদ্ধার হয়। পূজার দাবি, এটি সম্পূর্ণ আত্মহত্যা, খুন নয়। একই দাবি তুলেছেন ভোলাও।
তবে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, মৃতার উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। তাঁদের অভিযোগ, ভোলা নিজের মাকেও মারধর করতেন, আর মেয়ে ও সৎমায়ের সম্পর্ক ছিল তিক্ত। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা দম্পতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁদের পাড়াছাড়া করার দাবি তোলেন। স্থানীয়দের একাংশ ইতিমধ্যেই সই সংগ্রহ শুরু করেছেন।
পুলিশ জানাচ্ছে, আপাতত আত্মহত্যার তত্ত্বই প্রধান। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন— মাত্র দশ বছরের একটি মেয়ে কেন এমন চরম পদক্ষেপ নেবে। আলমারির ভিতর থেকে একটি হ্যাঙ্গার ও মেয়েটির গলায় থাকা ওড়নার ফাঁস উদ্ধার করা হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশও।