
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 February 2025 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাত কেটেছেন তিনি, খুনও করেছেন তিনজনকে! ট্যাংরা কাণ্ডে (Tangra Triple Death) ছোট ভাই প্রসূন দে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এতদিন ধরে তিনি দাবি করে আসছিলেন যে, স্ত্রী এবং বৌদি নিজেরাই হাত কেটেছিলেন। কিন্তু এবার সত্যিটা বলে ফেলেছেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এই স্বীকারোক্তির জেরে পুলিশ (Kolkata Police) ট্যাংরা কাণ্ডের কিনারা করতে পারবে।
ট্যাংরার ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের আতশকাচের তলায় ছিলেন দুই ভাই প্রসূন এবং প্রণয় দে। বাইপাসের দুর্ঘটনায় আহত নাবালকও শিশু সুরক্ষা কমিশনের কাছে দাবি করেছিল যে, কাকাই খুন করেছে। তাঁকে মারতে এলে সে মরার ভান করে পড়েছিল। সূত্রের খবর, এতদিনে পুলিশের কাছে এই কথাই স্বীকার করে নিয়েছেন প্রসূন দে। তিনি নাকি জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁর স্ত্রী রোমি নিজেই হাত কাটার চেষ্টা করেন। কিন্তু না পারলে তিনি মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হাত কেটে খুন করেন তাঁকে। পরে বৌদি সুদেষ্ণারও হাত তিনিই কাটেন।
বড় ভাই প্রণয় আগে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, হাত কাটার ভাবনা তাঁর ভাইয়েরই ছিল। তিনি নিজে ভয়ে কাটতে পারেননি। পুলিশ দেখেছিল একমাত্র তাঁর হাতেই কাটার দাগ নেই। তখন সন্দেহ হয়েছিল তিনিই খুনগুলি করেছেন। তবে এখন প্রসূনের কথায় প্রণয়ের বক্তব্য মান্যতা পেল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে নাবালক যে দাবি করেছিল তাতে সন্দেহ হচ্ছে পুলিশের।
নাবালক অভিযোগ করেছে, প্রসূন প্রথমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পায়েস খাওয়ায় এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু সে যোগব্যায়ামের কৌশল প্রয়োগ করে শ্বাস বন্ধের অভিনয় করে প্রাণে বেঁচে যায়।
তবে লালবাজারের মতে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই, কারণ বাড়ি থেকে এমন কোনও জিনিস পাওয়া যায়নি, যাতে প্রতীপের যোগাসন অভ্যাসের কোনও প্রমাণ মেলে। এমনকি তার দাবিমতো কোনও যোগা ম্যাটও উদ্ধার হয়নি। শুধু পাওয়া গেছে দু'টি জিম ব্যাগ, যা প্রণয় ও প্রসূনের ছিল।
পাশাপাশি, নাবালক দাবি করেছে, তার বাবা ও কাকা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশি তদন্তে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।
সব মিলিয়ে, প্রতীপ দের কথাকে পুরোপুরি মেনে নিতে রাজি নন তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, হয় সে কথা বদল করছে, নয় কিছু গোপন করছে। এমনও হতে পারে, সে বাবা-কাকার শিখিয়ে দেওয়া কথা বলছে। সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।