
শান্তনু সেন
শেষ আপডেট: 23 December 2024 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত আরও দ্রুততার সঙ্গে হোক। এই দাবি তুলে সোমবার সিজিও কমপ্লেক্স অভিযোন করে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ। তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডঃ শান্তনু সেন। সিবিআই অফিসে ডেপুটেশনও জমা দেন তাঁরা। দাবি করা হয়েছে, হয় দ্রুত তদন্ত করে বিচার দেওয়া হোক, নাহলে তদন্তভার ফের রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দিক সিবিআই।
শান্তনু সেনের বক্তব্য, তদন্তের একটা প্রক্রিয়া থাকে ঠিকই। কিন্তু যেখানে রাজ্যের পুলিশ ৫২-৫৫ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং দোষীদের ফাঁসির সাজা হয়, সেখানে এত বড় একটি ঘটনায় সিবিআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের এই তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রেক্ষিতেই আইএমএ-র স্পষ্ট দাবি, দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি দিক সিবিআই, নাহলে রাজ্যের হাতে তদন্ত ফেরাক।
আরজি কর কাণ্ডের ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে। কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাকে গ্রেফতার করেছিল সেই সঞ্জয় রায়কেই মূল দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিবিআই। আর কাউকে গ্রেফতারই করা হয়নি। এদিকে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় ইতিমধ্যে জামিন হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। সেই ইস্যুতে এমনিতেই ক্ষোভ বেড়েছে সকলের। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শান্তনুর বক্তব্য, যে রাজ্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করতে পারে, তারা ১০০ দিন তদন্তের সুযোগ পেলে অনেক আগেই অনেককিছু সত্য উদ্ঘাটন করতে পারত।
সোমবারের আইএমএ-র অভিযানে ইডি-সিবিআই বিরোধী পোস্টারও দেখা যায়। তাতে লেখা ছিল, 'ইডি-সিবিআই চোরে চোরে মাসতুতো ভাই...ফনা আছে, বিষ নাই... বাংলা ছেড়ে নাও বিদায়!' একইসঙ্গে, ১০০ দিনেও বিচার না দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে অপদার্থ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে তাঁদের তরফে।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, নতুন করে মেয়ের খুনের তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা। বর্তমানে যে তদন্ত চলছে তাতে তাদের আস্থা নেই। তাঁদের দাবি, দ্রুত নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিক আদালত। নির্যাতিতার পরিবার দাবি করেছে, এই তদন্তের নামে সব তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে। বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়া চলছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এখনই যদি আদালত হস্তক্ষেপ না করে তাহলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা নির্যাতিতার বাবা-মার।