
শেষ আপডেট: 25 December 2023 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রকমারি সান্তা টুপি পরা মাথার ভিড়। কখনও পথ চলতে চলতে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি-র সামনে নানান পোজে সেলফি তোলার হিড়িক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাত ছাপিয়ে সেই ভিড় ধীরে ধীরে নেমে এল রাস্তায়। কলকাতার বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থানে লম্বা লাইনে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জো! বড়দিনে শহর কলকাতার ছবিটা ছিল খানিকটা এ রকমই। সোমবার সকাল থেকেই পার্ক স্ট্রিটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভিড়ের দৌড়ে পিছিয়ে নেই ভিক্টোরিয়া-চিড়িয়াখানা-ইকোপার্কও।
বড়দিন মানেই উৎসব মুখর কলকাতাবাসী। প্রতিবারের মতো এবছরও তিলোত্তমার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তিল ধারণের জায়গায় ছিল না আলিপুর চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া, ইকো পার্ক সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ঢল। কচিকাঁচা থেকে বড়, সকলেই শীতের আমেজে হালকা রোদ্দুর গায়ে মেখে সেলিব্রেশনে মেতেছেন। বড়দিনে ঠান্ডা গায়েব হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল হাওয়া অফিস। কিন্তু তাই বলে বড়দিনের আনন্দে এতটুকু ভাটা পড়েনি। সোমবার সকাল থেকেই শাল-সোয়েটার গায়ে চাপিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন কাতারে কাতারে মানুষ।
এদিন সকাল থেকেই আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে ছিল লম্বা লাইন। নির্দিষ্ট সময় চিড়িয়াখানা খুলেছে। তবে তার বহু আগে থেকেই মানুষের টিকিট কাটার লাইন দেখা গিয়েছে। যা সামলানোর জন্য ছিল নিরাপত্তার কড়া বন্দোবস্ত। গতকাল রবিবারই চিড়িয়াখানায় ৭০ হাজারের বেশি দর্শক গিয়েছিলেন। বছরের শেষ দিন ও নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এইরকম ভিড় থাকবে বলে মনে করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক বছরে কলকাতার বাসিন্দাদের কাছে আরও একটি ভ্রমণের স্থান হয়ে উঠেছে ইকো পার্ক। বিশাল জায়গা জুড়ে এই দর্শনীয় স্থানটিতে পাখিবিতান, বাটারফ্লাই গার্ডেন, স্কাল্পচার গার্ডেন, রেন ফরেস্ট, বিভিন্ন ফলমূলের বাগান, ফ্লোটিং মিউজিক ফাউন্টেন, গ্লাস হাউসের পাশাপাশি সপ্তম আশ্চর্যকে চেটেপুটে উপভোগ করেন দর্শকরা। মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সাধারণ দর্শকদের জন্য ইকো পার্ক সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সোমবার সাধারণত ইকো পার্ক বন্ধ থাকে। তবে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ইকো পার্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সকাল থেকে জমজমাট ছিল নিক্কো পার্কও। রকমারি জয় রাইডের মজা উপভোগ করতে কলকাতার পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় করেন। অনেকেই আবার এবছর ভিড় এড়াতে ঢুঁ মেরেছেন নিউটাউনের হরিণালয় অর্থাৎ মিনি চিড়িয়াখানায়। ইকোপার্ক লাগোয়া এই চিড়িয়াখানায় জেব্রা, জিরাফ, বিদেশি বানর, বিদেশি পাখি মন ছুঁয়ে নিচ্ছে দর্শকদের। বড়দিনে দর্শকদের আকর্ষণ ছিল সায়েন্স সিটিতেও। সকাল থেকে সেখানেও ভিড় চোখ পড়ে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্ক স্ট্রিট উৎসবমুখী জনতার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে শুরু করে। ক্রমশ ভিড় বাড়তে থাকে সেখানকার একাধিক রেস্তরাঁয়। সন্ধ্যার দিকে আলোর রোশনাইয়ে উৎসব প্রাঙ্গণের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। সন্ধ্যার পর থেকে ভিড়ের নিরিখে পিছিয়ে ছিল না বো বারাকও।