
চলছে বুলডোজার।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হকার উচ্ছেদ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কড়া মেজাজের সুর সোমবারই শোনা গেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তার পর থেকেই জল্পনা ঘনিয়েছিল, খুব তাড়াতাড়ি ওঠানো হবে শহরের বেআইনি হকারদের, জবরদখল করা ফুটপাতগুলি পুনরুদ্ধার করতে তৎপর হবে পুরসভা। হলও তাই। রীতিমতো বুলডোজার চলল শহরের বুকে।
আজ, বুধবার সকাল থেকেই বুলডোজার নিয়ে বেআইনি দখলমুক্ত করার কাজ চালাতে শুরু করেছেন পুর আধিকারিকরা। বেহালা, ভবানীপুর, গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ, আলিপুর, থেকে শুরু করে নিউটাউন পর্যন্ত-- জবরদখল উঠিয়ে ফুটপাত উদ্ধারে সকাল থেকেই পথে নেমেছে পুলিশ এবং পুরসভা। কোথাও কোথাও চলেছে বুলডোজারও।
এদিন সকালে বেনিয়াপুকুর থানার উদ্যোগে উল্টে দেওয়া হয় একাধিক দোকানপাট। নিউটাউনের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ঘিরে রীতিমতো ধুন্ধুমার বেধে যায়। দোকান ভাঙতে পুলিশকে বাধা দেন দোকান মালিকরা। পুলিশের সঙ্গে দোকানদারদের বচসা বাড়তে থাকে। কোল ভবনের সামনে রাস্তায় হকারদের জমায়েত দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধাননগর পুলিশের বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। ছিলেন ডিসি নিউটাউন মানব সিংলা এবং নিউটাউন থানার আইসি কল্লোল ঘোষ। এনকেডিএ-র এর পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।
আলিপুরের অবস্থা আরও খারাপ। আলিপুর চিড়িয়াখানার আশপাশে রাস্তার উপর দেড়শোরও বেশি দোকান রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরে এই হকারদের সরে যাওয়ার জন্য বারবারই জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তাতেও ফুটপাত খালি না হওয়ায়, বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার পে লোডার এনে একের পর এক ঝুপড়ি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। হকারদের জিনিসপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বেহালা, ইএম বাইপাস, শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে এনআরএস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও অভিযান চলে। এ ছাড়াও আনন্দপুর এলাকার খালের ধারে রাস্তা দখল করে দেওয়া দোকানও সরিয়ে দেওয়া হয়। বেহালা এলাকায় দখলদারি সরাতে ব্যবহার করা হয়েছে বুলডোজ়ার।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার ফের নবান্নে হকার উচ্ছেদ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, বিধাননগর-সহ পুর নিগম ও পুরসভার চেয়ারম্যান, সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে সমস্ত থানার ওসি, আইসিদেরও সশরীরে নবান্নের বৈঠকে থাকতে হবে। নবান্নের এই নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন করে উদ্বেগের স্রোত বইতে শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে।
সূত্রের খবর, শহরের একাংশ বাসিন্দা যেমন হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন তেমনই রাতারাতি বেশ কিছু মানুষের রুটিরুজি হারানো নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কারণ, যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাদের সকলেই অল্প কিছুদিন দোকান করে বসে রয়েছেন এমনটা নয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ফুটপাতে দোকান করে রয়েছেন।
এদিনও উচ্ছেদ করতে যাওয়া পুলিশ কর্মীদের পা ধরে অনেক হকারকে কাঁদতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে কোনও একটি পলিসি ঠিক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।