
শেষ আপডেট: 22 January 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী পড়ুয়া-চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের (Sanjay Roy) আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত। সেই সাজা মোতাবেক, এখন প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় জেলে বন্দি থাকবে সে। কঠোর পরিশ্রমে কাটবে দিন। তবে জেল প্রশাসন জানিয়েছে, সেই পরিশ্রমের বদলে সে প্রতিদিন ১০৫ টাকা করে মজুরি পাবে।
জানা গেছে, সঞ্জয় রায় বর্তমানে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া 'পয়লা বাইশ' ব্লকের ৬ নম্বর সেলে রয়েছে। তাকে প্রতিদিন সেলের ভিতরে হাঁটা এবং ব্যায়াম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারিতে কেবল সেল ব্লকের ভিতরেই চলাফেরা করতে পারবে সে।
এক জেল আধিকারিকের কথায় 'সঞ্জয় এখন আর বিচারাধীন বন্দি নয়। এখন তাকে কঠোর শ্রমে নিযুক্ত করা হবে। যেহেতু তার কোনও দক্ষ বা আধা-দক্ষ শ্রমের অভিজ্ঞতা নেই, তাই তাকে ১০৫ টাকা দৈনিক মজুরিতে সাধারণ শ্রমনির্ভর কাজকর্ম করতে দেওয়া হবে।'
জেলে কী কী কাজ করতে হবে সঞ্জয়কে?
জেল সূত্রের খবর, সঞ্জয়কে সম্ভবত বাগান পরিচর্যার (গার্ডেনিং) কাজ দেওয়া হবে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। প্রথমে তাকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শিখতে হবে এবং এরপর স্থায়ীভাবে কাজে নিযুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, সঞ্জয় এক সময় পেশাদার বক্সার ছিল এবং ২০১৯ সালে সে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করে।
প্রেসিডেন্সি জেলের বন্দিদের কী কী কঠোর শ্রম করানো হয়?
এই সমস্ত কাজ করে অদক্ষ শ্রমিকরা ১০৫ টাকা, আধা-দক্ষ শ্রমিকরা ১২০ টাকা, এবং দক্ষ শ্রমিকরা ১৩৫ টাকা প্রতিদিন হিসেবে দৈনিক মজুরি পান। বন্দিরা এই অর্থ দিয়ে জেলের ভিতরেই প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে পারেন। মুক্তি পাওয়ার পরে এই অর্থ নিয়ে তাঁরা বাড়িও যেতে পারেন।
সঞ্জয়ের সেলের পাশে তার প্রতিবেশী হিসেবে রয়েছেন, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ২০০২ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার অপরাধী আফতাব আনসারি ও জামালুদ্দিন নাসের। জানা গেছে, সাজার আদেশ ঘোষণার পরে জেল কর্মকর্তাদের কাছ ছেতে সঞ্জয় পাঁচটি কম্বলের পাশাপাশি আরও তিনটি অতিরিক্ত কম্বল চেয়েছে।