
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
শেষ আপডেট: 5 September 2024 01:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে ফের আরও একটা রাত রাজপথে জনতা। শুধু তাই নয়, অরাজনৈতিক এই আন্দোলনকে রাজনীতির ছোঁয়া থেকে রক্ষা করতে এবার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে রাতের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণই করতে দিলেন না আমজনতা।
আরজি করের বিচারের দাবিতে ফের রাতের শহরে জনতা।
এর আগে লালবাজারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে তেড়ে গিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধেও বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁরা জোর গলায় 'মিথ্যা প্রচারের' অভিযোগ এনেছিলেন। এবার জনতার ক্ষোভের মুখে পড়তে হল সেলিব্রিটি অভিনেত্রীকেও।
আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে বুধবার রাত ৯টা থেকে ১০টা, ১ ঘণ্টা ঘরের আলো নিভিয়ে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। বাস্তবে দেখা গেল, ৯টার অনেক আগে থেকেই পথে নামলেন জনতা এবং রাত ১২টার পরও কলকাতা থেকে জেলা, বহু এলাকায় মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল।
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ।
শ্যামবাজারে পাঁচ মাথার মোড়ে জনতার সেই ভিড়ে হাজির হন অভিনেত্রী সেলিব্রিটি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তবে অভিনেত্রী-সেলিব্রিটি জনতার অরাজনৈতিক এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছেন, শুনেই মানুষের ক্ষোভ বেড়ে যায়। ঋতুপর্ণার গাড়ি ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। শুনতে হয় গো ব্যাক স্লোগানও।
ভিড়ের মধ্যে থেকে হাওয়ায় চটি দেখিয়ে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে তাঁবেদারি করার অভিযোগও আনা হয়। এ ব্যাপারে অবশ্য অভিনেত্রীর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
শ্যামবাজারে অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে হাওয়ায় চটি দেখাল জনতা।
অভিনেত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ কেন? উপস্থিত আমজনতার কথায়, "উনি ভাল অভিনেত্রী। সেজন্য একসময় ওনার অভিনয় দেখেছি, তার প্রশংসাও করেছি। কিন্তু মানুষ হিসেবে এরা সুবিধেবাদী। তাই সাধারণের এই কর্মসূচিতে সুবিধেবাদীদের কোনও স্থান নেই।"
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা বুধবারও সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সহপাঠীর ধর্ষণ-খুনের বিচারের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং রাজনীতির ছোঁয়া বাঁচিয়েই তাঁরা 'জাস্টিস ফর আরজি কর' এর আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।
এর আগে ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে রাত দখলের ডাক দিয়েছিল মেয়েরা। সেদিনও কলকাতা থেকে জেলায় দেখা গিয়েছিল মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি। গত রবিবার ধর্মতলায় 'আমরা তিলোত্তমা'র রাত দখলের কর্মসূচিতেও জনারণ্যের ছবিটা দেখা গিয়েছিল। সোমবার লালবাজারে রাত জেগেছিলেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। দুদিনের ব্যবধানে এবার ১ ঘণ্টার কর্মসূচিকে মধ্যরাত পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেন জনতা জনার্দনই।
মধ্যরাতেও রাস্তায় জ্যাম। অথচ মানুষের মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই! শেষ কবে এমন অরাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখেছে বাংলা?