
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 April 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারাদের (Jobless Teachers) পাশে দাঁড়িয়ে গত দু'দিন ধরেই এসএসসি ভবন (SSC) চত্বরে যাচ্ছেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhayay)। শুক্রবারও গেছিলেন। কিন্তু এদিন কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হল তাঁকে। কারণ আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হল 'গো-ব্যাক' স্লোগান (Go-Back Slogan)! যদিও অভিজিৎ মনে করছেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন তাঁরা আদতে চাকরিহারা নন। তাঁরা এসইউসি-সিপিএম পার্টির দালাল।
গত বুধবার এসএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবিই জানান তিনি। এদিন রাজ্য সরকারকে ২ ঘণ্টার 'ডেডলাইন' দেন বিজেপি সাংসদ। বলেন, এই সময়ের মধ্যে যদি রাজ্য এসএসসি-কে এই বিষয়ে নির্দেশিকা না পাঠায়, তা হলে বোঝা যাবে চাকরি ফেরানোর ইচ্ছে নেই তাঁদের। পরবর্তী ক্ষেত্রে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে 'গো-ব্যাক' স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
সিপিএম-কে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, ''আন্দোলনের দখলদারি নিতে চায় তাঁরা। মনে করে সব আন্দোলন তাঁরাই করবে। আরজি আন্দোলনেও যখন গেছিলাম তখনও আমাকে গো-ব্যাক বলা হয়েছিল। এখানেও কিছু দালাল হাজির হয়েছে। আমার মনে হয় না তাঁরা প্রকৃত শিক্ষক। শুধু দালালি করতে হাজির হয়েছে।'' বিজেপি সাংসদের সাফ কথা, এইসব স্লোগান দিয়ে কোনও লাভ নেই। তিনি রাত ১২টা পর্যন্ত থাকতে পারেন। কে কত স্লোগান দেবে তিনি দেখবেন। তাঁদের স্লোগানে কিছু আসে যায়-না, তাঁরা কেউ নন এই আন্দোলনের। অভিজিতের কথায়, 'এদেরকে আমি পিঁপড়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই না।'
বৃহস্পতিবারই এসএসসি ভবনের সামনে থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, মিরর ইমেজ যে প্রকাশ করা যায় তা স্পষ্ট। কিন্তু কেন এখনও করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার যে সদিচ্ছা প্রকাশ করছে না এটাও পরিষ্কার। তাই চাকরিহারাদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ছিল, 'ভয় পেয়ে সরে গেলে চলবে না। লড়ে যেতে হবে। আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ব।' বৃহস্পতিবার থেকেই অনশন শুরু করেছেন চাকরিহারাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এসএসসি বলেছে যে তাঁদের কাছে মিরর ইমেজ আছে, আর তাঁরা তা প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু কবে করবে, আদৌ করবে কিনা, তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তাই যতদিন না পর্যন্ত মিরর ইমেজ প্রকাশ করা হচ্ছে, ততদিন অনশন চলবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার কসবার ডিআই অফিস অভিযানে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হয়েছে চাকরিহারাদের। শুধু তাই নয়, লাথি, চড়, ঘুষি কিছুই বাদ যায়নি। একদিকে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশের দাবি এবং অন্যদিকে পুলিশি প্রহারের বিরোধিতায় অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা, এমনটাই জানান অনশনরত চাকরিহারারা।