
শেষ আপডেট: 19 March 2024 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরেই গার্ডেনরিচ কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয় প্রোমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে। ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ বহুতলের প্রোমোটারের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বাড়ি তৈরিতে গাফিলতি, নির্মীয়মান বাড়ি ভেঙে আশপাশের বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি হওয়া -সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কে এই ওয়াসিম? অনুমোদন না নিয়েই এলাকায় বহুতল বানিয়ে ফেলার ক্ষমতা সে কোথা থেকে পেল, তাই এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই প্রোমোটার ওয়াসিমের উত্থানও চমকপ্রদ। জানা যাচ্ছে, রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ ওয়াসিম এক সময় দুধের ব্যবসা করত। তারপর ধীরে ধীরে পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু সেখানে সে থেমে থাকেনি। সাঙ্গোপাঙ্গো জুটিয়ে গার্ডেনরিচ এলাকায় নির্মাণের ব্যবসা শুরু করে। এর সঙ্গে চলে শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটানোও। জানা গেছে, স্ত্রীর নামে জামাকাপড়ের ব্যবসাও ছিল তার। বর্তমানে সে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবালের ব্যবসা সামলাতো। গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে বহু মানুষের মৃত্যুর পর এই তৃণমূল কাউন্সিলরেরই গ্রেফতারি দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশ জানিয়েছে, যে জায়গায় ওই বহুতলটি নির্মাণ করা হচ্ছিল সেখানে আগে পুকুর ছিল। সেই পুকুর ভরাট করেই বহুতল নির্মাণ করতে শুরু করে ওয়াসিম। তাৎপর্যপূর্ণ হল, পুরসভা জি প্লাস টু-র অনুমতি দিলেও সেখানে জি প্লাস ফাইভ কাঠামো তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ ৬ তলা বিল্ডিং। বাড়ির ভিত মজবুত ছিল না জেনেও, নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল ওয়াসিম। এখানেই শেষ নয়। যাঁর জমিতে তৈরি হচ্ছিল ওই বহুতল, তিনি ফ্ল্যাটের জন্য তাড়া দিচ্ছিলেন। সে কারণে ফ্ল্যাটের নীচের তলা তৈরির আগেই উপর তলার কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। মোট ১৬টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হচ্ছিল সেখানে। অর্থাৎ এক-এক তলায় চারটি করে। পুরসভার একটি অংশ মনে করছে, বাড়ির ভিত চারতলার ভার বহন করতে পারেনি।
এখন প্রশ্ন হল অনুমতি ছাড়াই এত বড় কর্মকাণ্ড কীভাবে ঘটাচ্ছিল ওয়াসিম? তার পিছনে কোন কোন ক্ষমতাশালীর হাত রয়েছে তার খোঁজ করছে পুলিশ। বহুতলটি যে বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বাম আমল থেকে বেআইনি নির্মাণ চলছে। বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে দোষ দিতে রাজি হননি ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘‘কোন গলিতে বেআইনি ভাবে কী তৈরি হচ্ছে, সেটা কাউন্সিলর জানবেন কী ভাবে?”
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টা, অবৈধ নির্মাণের জন্য কলকাতা পুরসভা আইনে মামলা করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের দাবি, ধ্বংসস্তূপে এখনও ২ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।