
শেষ আপডেট: 21 August 2024 00:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পিছনের গেট দিয়ে সিবিআই অফিসে প্রবেশের সময় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বেশ জোর গলায় বলেছিলেন, "কারা রটিয়ে দিয়েছে, আমা্কে নাকি গ্রেফতার করা হয়েছে, এটা ঠিক নয়! আমাকে গ্রেফতার করা হয়নি।" এও জানান, তিনি সিবিআইকে তদন্তে সবদিক থেকে সহযোগিতা করছেন।
শুক্রবার থেকে তাঁকে জেরা করা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দুঁদে গোয়েন্দারা। মঙ্গলবারও সেই ধারা অব্যাহত রইল। সিজিওতে ঢুকেছিলেন সকাল সাড়ে ১১টায়। বেরোলেন তখন ঘড়ির কাঁটায় প্রায় ১০টা! রবি, সোমবারের মতো এদিনও অবশ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য না করে সোজা গাড়িতে উঠে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বস্তুত, গড়ে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা জেরার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সন্দীপবাবুকে।
চোখে মুখে কি বাড়তি দুশ্চিন্তার ছাপ? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হওয়াটাই স্বাভাবিক। সিবিআইয়ের পাশাপাশি নবান্নও তাঁর বিরুদ্ধে সিট গঠন করেছে। পুলিশের তরফেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাক্তন অধ্যক্ষর স্নায়ুর চাপ বাড়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।
আরজি করে ছাত্রী খুনের ঘটনায় অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের অভিযোগ আগেই এনেছিলেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা এবং নির্যাতিতার পরিবার। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে এ ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে।
প্রসঙ্গত, সিবিআইয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেননি অধ্যক্ষ। পরিবর্তে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এরপরই রাস্তা থেকে অধ্যক্ষকে তুলে শুক্রবার দুপুরে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। ছাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অধ্যক্ষ কেন বৃহস্পতিবার তদন্তকারীদের হাজিরা এড়িয়ে গেলেন তদন্তে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, সেদিন হাসপাতালের সহকারী সুপার টেলিফোন করে মেয়ে 'সুইসাইড' করেছে বলে জানিয়েছিলেন। সিবিআই সূত্রের খবর, ওই সহকারী সুপার জেরার মুখে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষর নির্দেশেই তিনি একথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন মেয়েটির পরিবারকে। সূত্রের খবর, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে এমনই একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। সেই সূত্রেই ধারাবাহিকভাবে চলছে জেরা পর্ব।