Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

‘সবুজ ভারত’ মিশনে বাধা কি আর্থিক বিনিয়োগ? কলকাতার মঞ্চে উঠল বিতর্ক

পরিবেশ দূষণ, সবুজের ধ্বংস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে শুধুমাত্র রাজ্যের কিংবা দেশের সমস্যা নয়, এক বৈশ্বিক বিপর্যয়, আলোচকদের বক্তব্যে এই বিষয়টি ঘুরেফিরে আসে।

‘সবুজ ভারত’ মিশনে বাধা কি আর্থিক বিনিয়োগ? কলকাতার মঞ্চে উঠল বিতর্ক

নিউটাউনের আলোচনা সভা

শেষ আপডেট: 16 January 2025 17:43

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, কার্বন নি:সরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, প্রথাগত এনার্জি থেকে গ্রিন এনার্জিতে সরে আসা—জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে কীভাবে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব, এই প্রশ্নে উপরের প্রস্তাবগুলি উঠে এল পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক আয়োজিত আলোচনাসভায়। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে দুই দিনের অধিবেশন। আজ ছিল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এ ছাড়া বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ, ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্সের চেয়ারম্যান নরেশ ত্যাগী, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাজশ্রী রায় প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

পরিবেশ দূষণ, সবুজের ধ্বংস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে শুধুমাত্র রাজ্যের কিংবা দেশের সমস্যা নয়, এক বৈশ্বিক বিপর্যয়, আলোচকদের বক্তব্যে এই বিষয়টি ঘুরেফিরে আসে। যেহেতু সভার শীর্ষকে (ফিনান্সিং ইন্ডিয়াজ গ্রিন ট্রান্সিশন প্ল্যান অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন নিডস) ‘আর্থিক’ প্রসঙ্গটি জুড়ে ছিল, তাই অবধারিতভাবে ‘সিওপি ২৯’ (রাষ্ট্রপুঞ্জের ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন)-কে সকলেই নিশানা করেন। কারণ, গত বছর বাকুতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সাহায্য করার বদলে আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।

নরেশ ত্যাগী এই সমস্যার দিকে আঙুল নির্দেশ করে বলেন, ‘সম্মেলনে স্থির হল, ২০৩৫ সালের মধ্যে আর্থিক তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়ে অন্তত ৩০,০০০ কোটি ডলার এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলিকে পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত তহবিলে দেওয়ার জন্য সব সরকারি ও বেসরকারি সূত্র মিলিয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে অন্তত ১.৩ লক্ষ কোটি ডলারের সংস্থান করতে হবে। অথচ উন্নত দেশগুলির উচিত ছিল ২০২০ সালের মধ্যেই বছরে ১০,০০০ কোটি ডলার তহবিলের প্রতিশ্রুতিটি পূর্ণ করা; তারা সে কাজে দু’বছর দেরি করেছে।’

বাকুর জলবায়ু সম্মেলনের পাশাপাশি ‘নেট জিরো মিশন’ নিয়েও এদিন চর্চা হয়। (কোনও দেশে বছরে সর্বোচ্চ তত পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করবে, যা ওই একই বছর প্রকৃতি করতে পারে। অর্থাৎ, গ্যাসের নতুন নির্গমন বায়ুমণ্ডলে মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়াবে না। একেই নেট জিরো বলা বলা হয়।) গ্রিন ট্রানজিশন বা সবুজায়নের লক্ষ্যে এগোতে হলে এই মিশনের বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেন বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ। নীতি প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে তিনি হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। 

বাকি আলোচকেরা আর্থিক সমস্যাকে তুলে ধরলেও চন্দ্রশেখর উলটো সুরে গেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, টাকার সমস্যা ইস্যু নয়। ‘গ্রিন বন্ডে’র মতো ফিনান্সিয়াল ফান্ডিং রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজেক্ট বাবদ ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ এই ধরনের তথ্য কি সর্বস্তরের মানুষদের মধ্যে ছড়িয়েছে? কেউ কি জানে এই ধরনের আর্থিক সহযোগিতার কথা?’ বিভিন্ন ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীকে এ বিষয়ে অবগত করা হলে সবুজ পৃথিবী বানানোর লক্ষ্যে এগোনো সহজ হবে বলে মত বন্ধন-প্রধানের।

পাশাপাশি গ্রিন ট্রানজিশন বাস্তবায়িত হলে তার সুফল কী কী হতে পারে সে বিষয়ে সমাজের প্রান্তিক স্তর অবধি সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন তিনি। বর্তমান প্রজন্ম পাবে সুস্থ ও নিরুপদ্রব জীবন এবং আগামী প্রজন্ম উন্নততর পৃথিবীতে বাঁচার সুযোগ পাবে—এই বার্তা যত দ্রুত সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া হোক। মন্তব্য চন্দ্রশেখরের।


```