
এসপ্ল্যানেডে রাস্তা, ফুটপাথের ছবির তেমন বদল হয়নি।
শেষ আপডেট: 3 July 2024 15:19
কলকাতা শহরে হকার-রাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এরপরই তেড়েফুঁড়ে ওঠে পুরসভা ও পুলিশ। উত্তরের হাতিবাগান থেকে থেকে দক্ষিণের গড়িয়াহাট কিংবা মধ্য কলকাতার ধর্মতলা সর্বত্রই অভিযান চালানো হয়। রাতারাতি বদলেও যায় শহরের ছবি। কিন্তু সাতদিনের মধ্যে ফের পুরনো ছন্দে ফিরল এসপ্ল্যানেড চত্বর। এক সপ্তাহ ধরে অভিযান চললেও এসপ্ল্যানেডে রাস্তা, ফুটপাতের ছবির তেমন বদল হয়নি। ধর্মতলা আছে ধর্মতলাতেই!
কয়েক দিন ধরে চলছে সমীক্ষা। এসপ্ল্যানেডের হকারদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ২০১৫ সালের হকারদের নির্দিষ্ট পেপার যাচাই করা চলছে। কিন্তু বেশ কিছু ফুটপাত জুড়ে ফের শুরু হয়েছে হকারদের ব্যবসা। প্রশাসনের নিষেধ সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের পসরা সাজিয়ে বসেছেন? এমনকী এই প্রশ্ন করতে গেলেই চড়াও হচ্ছেন ওই হকারদের একাংশ।
বেশ কয়েকজন ফুটপাতের ব্যবসায়ীর বক্তব্য, “জায়গা দিলে আমরা চলে যাব। কিন্তু সরকার যেখানে জায়গা দেবে সেখানে যে আমাদের আগের মতো লাভ হবে তার তো কোনও নিশ্চয়তা নেই।” আবার কয়েকজন হকার জানিয়েছেন, ফের মালপত্র নিয়ে বিক্রি করতে বসলেও তাঁরা সরকারের নিয়ম মেনেই সব কিছু করছেন। যেমন ডিসপ্লে, প্লাস্টিক ইত্যাদি ব্যবহার করছেন না তাঁরা। যদিও ধর্মতলায় কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনের ডানদিকের একটি রাস্তায় কিছু ফুটপাতে এখনও কয়েকটি দোকান রয়েছে।
গত ২৪ জুন নবান্নের বৈঠকে রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই একেবারে বুলডোজার দিয়ে বেআইনি দখলদারি ভাঙতে নেমে পড়ে পুলিশ। রাস্তা দখল করে বসে থাকা হকারদের তুলে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের একাংশ যেমন বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে, আবার রাতারাতি হকারদের তুলে দেওয়ায় তাঁদের পরিবারের হাহাকার মোটেই ভালো চোখে নেননি অনেকে।
এরপর কলকাতা সহ সমস্ত পুরসভা এলাকায় ফুটপাতে হকার বসার সুনির্দিষ্ট নিয়ম করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সমস্ত পুরসভার মেয়র, জেলা শাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক ডেকে মমতা স্পষ্ট জানান, হকারদের নির্দিষ্ট জোন করে দিতে হবে। তাঁরা পরিচয়পত্র পাবেন। সরকার নির্দিষ্ট জায়গাতেই বসবে হকাররা।