.webp)
কলকাতা হাইকোর্ট ও অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত।
শেষ আপডেট: 4 July 2024 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবীন্দ্র সরোবরের সবুজ ধ্বংসের অভিযোগে মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার পরিবেশ সংক্রান্ত ওই মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়ে দিল, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে রবীন্দ্র সরোবর লেক এলাকায় কোনও ক্রিকেট লিগের আয়োজন করা যাবে না। অনুশীলনও করতে পারবেন না ক্রিকেটাররা।
ক্যালকাটা এন্টারটেনমেন্ট ক্লাবকে রবীন্দ্র সরোবরের ৯৮ কাঠা জমি ক্রিকেট লিগের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। অভিযোগ, এরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থা আর্থ মুভার দিয়ে যেভাবে রবীন্দ্র সরোবরে চত্বরের ঘাস, মাটি উপড়ে ফেলা হচ্ছে তাতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
ওই মামলায় রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৫ জুলাই।
সরোবরের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল সবুজ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, নাম মাত্র দামে পুরসভার কাছ থেকে জমি লিজে নিয়ে রবীন্দ্রসরোবরের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। আর্থ মুভার দিয়ে মাটি খুঁড়তে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে বড় গাছের শিকড়ও পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছে। এমনকী রাতের বেলাও জেসিবি নিয়ে, হাই পাওয়ারের লাইট নিয়ে কাজ হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্রের ক্ষতি হচ্ছে।
এ ব্য়াপারে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল ২০১৭ সালে নির্দেশও আদালতে উল্লেখ করেন আবেদনকারীরা। তাঁদের কথায়, এভাবে দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস নষ্ট করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
যে সংস্থাকে রবীন্দ্র সরোবরের জমির ওই অংশ লিজ দেওয়া হয়েছে, সেই ক্যালকাটা এন্টারটেনমেন্ট ক্লাবের অন্যতম কর্তা অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত। আদালতে যীশুর আইনজীবীর বক্তব্য, "পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন মেনেই কাজ চলছে।"
আদালতকে তিনি জানান, পরিবেশ নষ্টর কোনও বিষয় নেই। ওখানে তারকাদের ক্রিকেট লিগ (সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ) আয়োজন করা হয়ে থাকে। সরোবরে যে ঘাস রয়েছে, সেটা জংলা ঘাস। তাই ঘাস মাটি সরিয়ে নতুন ঘাস লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে।
রাজ্যের এজির বক্তব্য, "সরোবরের কোনও গাছ কাটা হচ্ছে না। শুধুমাত্র বাচ্চাদের ক্রিকেটের কোচিং দেওয়ার জন্য একটি সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছে।"
এরপরই আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত রবীন্দ্র সরোবরে এমন কোনও লিগের আয়োজন করা যাবে না। সেখানে অনুশীলনও করতে পারবেন না ক্রিকেটারেরা।
এ ব্যাপারে রাজ্যেরও তীব্র সমালোচনা করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের মন্তব্য, "সরকারি জমি খেয়াল খুশি মতো যাকে ইচ্ছা ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না। ময়দানে সেনার জায়গায় এই ধরনের উপদ্রবের অনেক উদাহরণ আছে।"