
কলকাতার হাল কী - প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2024 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধের প্রভাব কলকাতা শহরে যে খুব বেশি পড়েছে তা এখনই বলা যাবে না। সকাল থেকে নানা প্রান্তে অবরোধের চেষ্টা হয়েছে, যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে কিছুটা। তবে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যদিও কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও মেট্রো অবরোধের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় অনেক পুলিশ মোতায়েন থাকায় আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারই ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল যে, বনধ তাঁরা মানবেন না। সমস্ত পরিষেবা সচল রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। বুধবার সকাল থেকে শহরের রাস্তায় বাস-অটো পরিষেবা মোটামুটি স্বাভাবিক। যাদবপুর থেকে শুরু করে কসবা, শ্যামবাজার সব এলাকাতেই বাস, গাড়ির সংখ্যা অন্যান্য দিনের মতো রয়েছে। যদিও ধর্মতলা এবং শ্যামবাজারে মেট্রোর গেটের সামনে অবরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন বিজেপির কিছু কর্মী-সমর্থক। তাঁদের অবশ্য পুলিশ সরিয়ে দেয়। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে টালা সেতুতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি বনধের সমর্থনে বড়বাজারে বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় ওঝার নেতৃত্বে মিছিলও করে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের অভিযোগ, একাধিক এলাকায় জোর করে দোকান বন্ধ করছে বিজেপি। সেই নিয়ে কয়েক জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এছাড়া শহরের রাস্তায় নেমে অনেক গাড়ি চালককে গাড়ি না চালাতে অনুরোধ করতে দেখা যায় বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। পরে অবশ্য তিনিও পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।
কলকাতা শহর ছাড়া বিভিন্ন জেলায় 'রেল রোকো' কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তার জেরেই সকাল থেকে উত্তেজনা। কারণ বনধ না মেনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পথে নেমেছে তৃণমূলও। কোচবিহার, ব্যান্ডেল, হাওড়া সহ একাধিক এলাকায় স্থানীয় স্টেশনে নেমে লোকাল ট্রেন আটকাচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বনগাঁ, মুর্শিদাবাদেও ধরা পড়েছে একই ছবি। ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত তো হচ্ছেই, পাশাপাশি রাস্তায় অবস্থান করার জন্য বাস, অটো পরিষেবাও স্বাভাবিক নয় বহু জায়গায়। ইতিমধ্যে একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন।
বিজেপি বাংলা বনধের ডাক দেওয়ার পর পরই মঙ্গলবার সন্ধেয় নবান্ন জানিয়েছিল রাজ্যকে স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রয়াস সমর্থনীয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সরকার বনধ মানছে না। বুধবার জনজীবন সচল রাখা হবে। যানবাহণ চলাচলও স্বাভাবিক রাখতে হবে।