২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করে ইডি। অভিযোগ ছিল, খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন বিতরণে বিপুল অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 September 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Distribution Scam) ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে ইডি (ED)। প্রায় দু'বছর আগেই দুর্গাপুজোর পরপরই তদন্তে নেমে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick) গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর পেঁয়াজের খোলসের মতো একের পর এক রেশনে দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। যদিও কয়েকমাস আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। এবার সেই জামিন খারিজের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রে খবর, হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করে ইডি। অভিযোগ ছিল, খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন বিতরণে বিপুল অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালত থেকে জামিন পান। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই একই মামলায় অভিযুক্ত তাঁর 'ঘনিষ্ঠ' এক সঙ্গীও জামিন পেয়েছিলেন।
তবে ইডির আশঙ্কা, জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারেন। আদালতে ইডি দাবি করেছে, বাইরে থাকলে তাঁরা সাক্ষীদের ভয় দেখাতে বা প্রমাণ লোপাট করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁদের জামিন বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, এই দুর্নীতির অঙ্ক হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে এবং মামলাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের আসন্ন শুনানি রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যে শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে, এমনই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
বিরোধীরা যেখানে দুর্নীতি ইস্যুতে শাসকদলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, সেখানে ইডির নতুন পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে শাসক দলকে আরও অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
গ্রেফতারির পরই মন্ত্রী পদ খুইয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তবে হাবড়ার বিধায়ক পদ এখনও আছে। জেলমুক্তির পর আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসার চেষ্টা চলছে তাঁর।
কয়েকদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বালু বলেছিলেন, 'পুলিশকে সজাগ হয়ে কাজ করতে হবে। ডায়রি নিতে হবে। মাঝে মাঝে অনেকে অভিযোগ করলেও থানা থেকে ডায়েরি নিতে চায় না। এভাবে চলবে না। সে তৃণমূলের লোকও যদি অন্যায় করে, শাস্তি পাবে।'