কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সরিয়ে দিয়েছে লালবাজার। সোনা পাপ্পুকে আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে।
.jpeg.webp)
সোনা পাপ্পু
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রদবদল পুলিশ বাহিনীতে। এবার সাসপেন্ড কসবা থানার ওসি। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এবার কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সরিয়ে দিয়েছে লালবাজার। অপরাধীদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, অপরাধীদের তালিকা থেকে সোনা পাপ্পুর নাম বাদ দিয়েছেন। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুকে আগামী ৮ এপ্রিল তলব করেছে ইডি।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের মুখে গত বুধবার সকাল থেকেই অ্যাকশন মুডেছিল ইডি (ED)। বালিগঞ্জের (Ballygunge) জোড়া ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারীদের দল। ইডি সূত্রে খবর, এর মধ্যে একটি ঠিকানা ছিল সোনা পাপ্পুর বাড়ি। আর্থিক প্রতারণা মামলার তদন্তে সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়।
ফার্ন রোডে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িতে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। অভিযোগ, নির্মাণকাজের নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছে সোনা পাপ্পু আর সেই টাকা তিনি পৌঁছে দিতেন প্রভাবশালীদের কাছে। সেই বিপুল পরিমাণ টাকার সূত্র খুঁজতেই সেদিনের অভিযান চালানো হয়।
জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর ফার্ন রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অস্ত্র। পাশাপাশি, পাপ্পু ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। কিছুদিন আগে, গোলপার্কের (Golpark) কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সোনা পাপ্পুকে।
এই ঘটনার পরেই ক্ষোভের কথা বলেন স্থানীয়রা। উঠে আসে এলাকা দখল ও বস্তি দখল প্রসঙ্গ, বেআইনি নির্মাণ-সহ একাধিক বিষয়। নেপথ্যে সোনা পাপ্পু। কসবা, ঢাকুরিয়া আর রামলাল বাজার চত্বরে নাকি ত্রাস এখন সে-ই। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণের কাজ করে সোনা পাপ্পু। বাসিন্দাদের অভিযোগ আরও গুরুতর—বিগত পুরভোট হোক বা অন্য কোনও নির্বাচন, বিরোধীদের ‘ঘরবন্দি’ করতে সোনা পাপ্পুই নাকি শাসকদলের পছন্দের হাতিয়ার।
এর আগে ২০২২ সালে তার নাম কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের তালিকায় জুড়ে জেলবন্দি করেছিল কলকাতা পুলিশ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসে এবং আবার শুরু হয় প্রভাব-প্রতিপত্তি।