
শেষ আপডেট: 15 October 2023 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘কুর্তিটার সঙ্গে ম্যাচিং লেগিংস যে হয়নি।‘ ‘ইস, একটা শাড়ির ব্লাউজ কেনাই বাকি রয়ে গেল!’ ‘শার্ট-জিন্সের সঙ্গে পরার জন্য আজ জুতোটা কিনে নিতেই হবে।‘ রয়েছে আরও কত কী খুঁটিনাটি পুজোর মার্কেটিংয়ের চিন্তা। এদিকে হাতে যে শুধু আজকের দিনটাই অর্থাৎ পুজোর আগে শেষ রবিবার। কেনাকাটার ফিনিশিং টাচ যে আজই দিতে হবে! তাই তো গাড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগান কিংবা নিউ মার্কেট চত্বর, রবিবার সকাল সকালেই ভিড় শুরু হয়ে যায় পুজোর মার্কেটিংয়ের। আর শুধু কেনাকাটা নয়, শহর কলকাতার একাধিক বড় পুজার উদ্বোধনও ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। তাই পুজোর শপিংয়ের সঙ্গেই প্যান্ডেল হপিং হলে মন্দ হয় না! তাই সবমিলিয়ে প্রতিপদেই মহানগরীতে জমজমাট পুজোর আমেজ।
এই বছর মহালয়ার আগেই বেশ কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন হওয়ার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তাই অনেকেই আগেভাবে কেনাকাটা সেরে মহালয়া থেকেই বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। সঙ্গ দেয় অনুকূল আবহাওয়াও। তাই গতকালের পর রবিবারও পুজোর কেনাকাটা আর ঠাকুর দেখার ভিড়ে দুপুর গড়াতেই স্তব্ধ হয়ে যায় মহানগরীর যানচলাচল। খাতায় কলমে পুজো শুরুর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই এমন পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হতে হয় পুলিশকেও। দিনের শেষে যা নিয়ে অনেকেরই মন্তব্য, ‘‘এখনই যদি এই হয়, তা হলে পুজোর ক-দিন কী হবে?’’
শুধু শহরের সড়কপথই নয়, প্রভাব পড়ে মেট্রো, বাস সহ শহরতলির সঙ্গে যুক্ত লোকাল ট্রেনেও। একে হাত ভর্তি কেনাকাটার পলিথিন ব্যাগ আর তার উপর আবার প্যান্ডেল হপিংয়ের তোড়জোড়। সবমিলিয়ে মহালয়ার পরদিনই যেন শহরের হাঁসফাঁস অবস্থা। মেট্রো স্টেশনগুলিতে সকাল ১০টা থেকেই ছিল থিকথিকে ভিড়। শাড়ি, পাঞ্জাবি— নতুন পোশাক পরে বেরিয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। হাতে ক্যামেরা, সেলফি স্টিক, মেয়েদের স্লিং ব্যাগে মেকআপের সামগ্রী।
মহালয়ার দিনই যেভাবে মহানগরীর ভিড় নজরে এসেছিল তাতে রবিবার বাড়তি সতর্কতা নেয় পুলিশ। যদিও তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। উত্তরের কুমোরটুলি সর্বজনীন, আহিরীটোলা সর্বজনীন, কাশী বোস লেন, হাতিবাগান সর্বজনীন এবং বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনীর মণ্ডপেও ভিড় উপচে পড়ে। তবে দক্ষিণে কেনাকাটার ভিড়ই ছিল বেশি। শপিংয়ের মাঝেই অনেকের বক্তব্য ছিল, ‘কেনা তো প্রায় শেষ। বড় ঠাকুরগুলো দেখে ফিরে যাই চলো।‘