
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরির দাবিতে গিয়ে জুটেছে পুলিশের লাঠি, লাথি, মারধর। এবার সেই চাকরিহারাদের (Jobless Teachers) বিরুদ্ধেই জোড়া মামলা দায়ের হল। একটি কসবা ডিআই-র (Kasba DI Office) করা অভিযোগের ভিত্তিতে হয়েছে, অপরটি কসবা থানার পুলিশের করা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Case Filed)। যদিও নির্দিষ্টভাবে কারও নামে অভিযোগ দায়ের হয়নি। অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার কসবায় ডিআই অফিস অভিযান করেছিলেন চাকরিহারারা। সেই অভিযানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অফিসে তালা লাগানো ছিল, ছিল পুলিশি কড়া নিরাপত্তা। তা সত্ত্বেও ভিতরে ঢুকে পড়েন চাকরিহারারা। তারপরে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। ঘটনায় একাধিক চাকরিহারা অসুস্থ হয়ে পড়েন, গুরুতর আহতও হন বেশ কয়েকজন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাঁরা নিয়ম ভেঙেছেন, পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছেন, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এও বলা হয়েছিল যে, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেখা গেল, সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা। তাও একটি নয়, দু-দুটি।
কসবার ঘটনায় পুলিশ প্রথম থেকেই বলে এসেছে, যারা চাকরি চাইতে এসেছিলেন তারা তাঁদের কাজে বাধা দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরং এই ঘটনায় পুলিশও আক্রান্ত। সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাও বলেন, পুরো ফুটেজ দেখা দরকার। একতরফা কোনও ছবি দেখে পরিস্থিতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এতএব, পুলিশি বক্তব্যে সাফ দাবি করা হয়, প্রথমে আক্রমণের মুখে পড়ে পুলিশই। তার পরেই 'আত্মরক্ষার্থে' গোলমাল নিয়ন্ত্রণ করে তারা। সেই প্রেক্ষিতেই চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে, কাদের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে।
চাকরিহারাদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনার নিন্দা করেছে সব মহলই। রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম রাজ্যের সমস্ত এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের যে সমস্ত ডিআই অফিসের সামনে চাকরিহারা শিক্ষকরা গিয়ে আন্দোলন করছেন, বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের গায়ে কোনওরকম হাত তোলা যাবে না। শান্তির পথে এবং আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সামাল দিতে হবে। কিন্তু এরই মধ্যে চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় বিতর্ক যে বাড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে চাকরিহারারা বলেছিলেন, নির্দেশ না থাকলে এমন করতে পারে না পুলিশ। তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না তাঁদের। তাহলে কেন পুলিশ এমন আচরণ করবে? তাহলে চাকরি চাইতে যাওয়াটা কি তাঁদের অপরাধ হয়ে গেল? এখন জোড়া মামলার খবর জানার পর আরও ক্ষুব্ধ তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমে চাকরিহারারা জানিয়েছেন, যে মামলা করা হয়েছে তার বিরোধিতা করছেন তাঁরা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রথম থেকেই অভিযোগ রয়েছে। আর মামলা দায়েরের বিষয়টিকে তাঁরা ধিক্কারই জানাচ্ছেন।