
ডাঃ তপোব্রত রায়
শেষ আপডেট: 15 October 2024 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ করে ধর্মতলায় অনশন করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের সমর্থনে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মহলের একাধিক ব্যক্তি পথে নেমেছেন। সরকারি, বেসরকারি বহু হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তাররাও প্রতীকী অনশন করেছেন জুনিয়রদের সমর্থনে।
এবার অনশনকে সমর্থন করে আটক হলেন এক ডাক্তার। তিনি আবার কলকাতা পুরসভার চিকিৎসক! পুজোর কার্নিভালে এমারজেন্সি ডিউটির জন্য পুরসভার মেডিক্যাল টিমের হয়ে উপস্থিত ছিলেন তপোব্রত রায় নামের ওই চিকিৎসক। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে ময়দান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জানা গেছে, ওই চিকিৎসক বুকে 'প্রতীকী অনশনকারী' ব্য়াজ লাগিয়ে এসেছিলেন। সেটা দেখার পরই পুলিশ তাঁকে আটক করে। যদিও পুলিশের তরফে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেওয়া হয়নি।
ধর্মতলায় গত ৫ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রথমে ৬ জন সেই অনশন শুরু করলেও পরে একে একে আরও অনেকে যোগ দেন। বর্তমানে আবার অনশনকারীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি। তবে আন্দোলন শ্লথ হয়ে পড়েনি। বরং ডাক্তারদের সমর্থনে আরও ভিড় বাড়ছে রাস্তায়। অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারদের বুকে 'অনশনকারী' ব্যাজ রয়েছে। তাঁদের যারা সমর্থন করছেন তারাও একই রকমের ব্যাজ পরছেন। সেই ব্যাজ পরেই আটক হয়েছেন পুরসভার ওই ডাক্তার।
পুজোর কার্নিভালের সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের দ্রোহের কার্নিভাল হওয়া আটকাতে কলকাতা হাইকোর্টে নানা যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু সব আর্জি খারিজ হয়ে যায় আদালতে। ডাক্তারদের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার পর সেই কার্নিভাল হচ্ছে। যদিও রেড রোডের কার্নিভালে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে তার জন্য রানি রাসমণি রোড এবং রেড রোডের মাঝে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও প্রতিবাদের আঁচ পৌঁছে গেল পুজোর কার্নিভালে।
রাজ্য সরকারের পুজোর এই কার্নিভালে মেডিক্যাল পরিষেবা দিতে কলকাতা পুরসভার যে টিম গেছে, সেই প্রতিনিধি দলের এক মেডিক্যাল অফিসারের বুকে ওই ব্যাজ দেখা যায়। শুধু তাই নয়, তিনি 'শিরদাঁড়া' লেখা টি-শার্টও পরেছিলেন। সেটাই চোখে পড়তে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ধর্মতলার অনশনরত জুনিয়র ডাক্তাররা। একই সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পুর-চিকিৎসকদের একাংশও। অবিলম্বে আটক হওয়া ডাক্তারকে মুক্তি দিতে হবে এই দাবি তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগ, পুলিশ ওই চিকিৎসকের ফোন কেড়ে নিয়েছে। তাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। দ্রুত তাঁকে ছাড়া না হলে ময়দান থানার সামনে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।