
রাত জাগছে ধর্মতলা।
শেষ আপডেট: 2 September 2024 00:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘড়়ির কাঁটা ১২টার ঘর পেরিয়ে গিয়েছে। অন্যদিনে এই সময় কার্যত শুনশান থাকে ধর্মতলা। রবিবারের রাতে সেই ধর্মতলা লোকে লোকারণ্য। আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে এদিন কলকাতা শহরে মহামিছিলের ডাক দিয়েছিল 'আমরা তিলোত্তমা' মঞ্চের প্রতিবাদীরা।
মিছিল শেষে বিকেল থেকে শুরু হওয়া ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে অবস্থান চলছে মধ্যরাতেও। গানে-স্লোগানে-পথনাটিকায় রাত যত বাড়ছে ভিড় যেন ততই বাড়ছে ধর্না মঞ্চে। সস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার, উষসী চক্রবর্তী, চৈতি ঘোষাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মতো একঝাঁক সেলিব্রিটির পাশাপাশি হাজির রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাতের সেই মঞ্চ থেকেই 'আমরা তিলোত্তমা'র প্রতিবাদীরা জানিয়ে দিলেন, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেবলীনা সরকারের কথায়, "আমাদের যেন আবার বোকা বানানো হয়। বিচারের আসা যেন ভেঙে না যায়, সেটা দেখুক প্রশাসন।"
সোহিনী সরকার, উষসী চক্রবর্তীরা বললেন, "এটা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মঞ্চ। দাবি একটাই, ধর্ষকদের কঠোরতম সাজার ব্যবস্থা করা।" স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বললেন, "এই সরকারকে তো আমরাই এনেছি। আরজি করের বিচার তো আমরা এই সরকারের কাছেই চাইব।"
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ।
প্রসঙ্গত, আরজি কর ইস্যুতে ১১দফা দাবি জানিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী ও শিশু কল্যাণ-সহ চারটি বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা এও জানিয়েছিলেন, সরকারিভাবে কোনও কর্তাব্যক্তি এসে কথা না বললে, ধর্না-অবস্থান থেকে উঠবেন না 'তিলোত্তমা'রা। ভোর চারটে পর্যন্ত ধর্মতলাতেই বসে থাকবেন তাঁরা।
তবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও কর্তা ধর্নামঞ্চে আসেননি। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিবাদীদের গলার স্বরও। গানে-স্লোগানে-পথ নাটিকায় চেনা দায় মধ্যরাতের ধর্মতলাকে!
এর আগে ১৪ অগস্ট রাত দখলের ডাক দিয়েছিল মহিলারা। এদিন যেন তারই পুনরাবৃত্তি দেখল কলকাতা।