
শেষ আপডেট: 4 February 2024 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে ৩৭৪ দিন ধরে শহিদ মিনারে চলছে আন্দোলন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আওতাতে এই কর্মসূচি। পাশপাশি ১৬ দিন ধরে অনশন মঞ্চও চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। আর এসবের মাঝেই রবিবার আচমকা খুলে নেওয়া হল ডিএ-র দাবিতে ধর্নামঞ্চ।
রবিবার সকাল থেকে মঞ্চ খোলা শুরু করে ডেকরেটার্সের কর্মীরা। চক্রান্ত করে অনশন ও ধর্না মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীদের। যদিও তাতে আন্দোলনে কোনও প্রভাব পড়বে না জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মঞ্চ খুলে দিলেও খোলা আকাশের নীচেই চলবে আন্দোলন।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের অদূরেই অনশন করছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। রবিবার সেনার তরফে এই অস্থায়ী ছাউনি খুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই ঘটনাটিতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা।
জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে সেনার তরফে এক প্রতিনিধি দল এসে আন্দোকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় তাঁদের ধর্না-অবস্থান তুলে নিতে বলা হয়। সেনার পক্ষ থেকে তাঁদের একটি নোটিসও ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন,'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মঞ্চের অদূরেই অবস্থান করছিলেন। সেখানে তাঁকে আমাদের নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছিল। সেই কারণে অবস্থান উঠে যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ করা হয়। এভাবে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আন্দোলন চলবে।' তবে আইনি পদক্ষেপ করা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বড়দিনের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি সরকারি কর্মীদের। এই ৪ শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ কার্যত ভিক্ষে দেওয়ার মতো বলে মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁদের। অন্যদিকে, একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার তারিখ পিছিয়েছে। আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে মামলাটি উঠতে পারে। তবে ওইদিন শুনানি হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।