
তন্ময় ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 14 December 2024 20:12
সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠতেই তন্ময়কে সাসপেন্ড করেছিল মহম্মদ সেলিমরা। শনিবার বাম নেতার সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করল দল।
শুক্রবার রাতে জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তীকে ফোন করে তন্ময়ের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেই মর্মে শনিবার জেলা সিপিএমের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাসপেনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। গতকাল তন্ময়কে ডেকে প্রায় চল্লিশ মিনিট কথা বলেন মহম্মদ সেলিম। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও সাসপেনশন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা টের পাননি তন্ময়।
বরিষ্ঠ সিপিএম নেতা জানান, 'ওই চল্লিশ মিনিটে সেলিম আমার কোন কোন জায়গায় গুণ আছে, ত্রুটি আছে, দুর্বলতা আছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কিন্তু তিনি আমাকে বুঝতেই দেননি যে আমার সাসপেনশন প্রত্যাহার হচ্ছে। এটাই হল কমিউনিস্ট পার্টি। এই হল কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য সম্পাদক। এই পার্টির জন্য আমি গর্বিত।'
তন্ময় জানান, 'এর পর নাকি তিনি জেলা সেক্রেটারিকে নির্দেশ পাঠিয়ে দেন যে আমার সাসপেনশন প্রত্যাহার করার হয়েছে। তারপর তিনি দলে যেভাবে বিষয়টা প্রচার করার সেটা করলেন। আমার বলতে ইচ্ছে করছে যে, এই পার্টির জন্য আমি নতুন করে গর্বিত হচ্ছি।'
শুক্রবার রাতে জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তীকে ফোন করে তন্ময়ের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেই মর্মে শনিবার জেলা সিপিএমের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাসপেনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
এখানেই স্বাভাবিকভাবে তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, সাংবাদিক বৈঠক করে যেখানে সাসপেন্ডের ঘোষণা করা হল, সেখানে প্রত্যাহারের খবর কেন এত 'চুপি চুপি'? এ ব্যাপারে অবশ্য তন্ময় জানিয়ে দেন, 'দল দলীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী যা করার করেছে। আমার আলাদা করে কোনও এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার নেই। আমার ধারণা খুব তাড়াতাড়ি হয় তো সেলিম এ ব্যাপারে প্রেস মিট করবেন। বুধবার করে আমাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা হয়। তারপরে যে প্রেস মিট হয়, সেখানেই হয়তো সবটা জানানো হতে পারে।'
তন্ময়কে ডেকে বরাহনগর থানা একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। দলের অভ্যন্তরীণ তদন্তেরও মুখোমুখি হয়েছিলেন বাম নেতা। অভিযোগকারী মহিলা সাংবাদিক-সহ আরও কয়েক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সেই কমিটি। রিপোর্টও জমা পড়েছে। তারপরই তন্ময়ের সাসপেনশন তুলে নেয় দল। সে রিপোর্টে কী আছে তা এখনও জানা যায়নি। কিন্তু তন্ময় এখনও নিজের কথায় অনড়।
তিনি বলেন, 'আগেও বলেছি এই ঘটনা পরিকল্পিত কুৎসা। এখনও বলছি। যে সাংবাদিক ফেসবুক লাইভ করেছিলেন, তাঁর বয়স অত্যন্ত কম। পেশায় নতুন, নবীন। কোনও ভাবেই যেন এই ঘটনার জন্য আমাকে ভালবাসেন এমন মানুষরা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যকে আঘাত না করেন। তাঁর পেশাগত স্বার্থকে কোনও সময় যেন কোনও রকম ভাবে অসম্মান না করা হয়। তাঁর প্রতি কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।'
যদিও শেষে তন্ময়বাবু একটা প্রশ্ন রেখেই দিলেন, 'যে চ্যানেল সাক্ষাৎকার নিল, তারা এখনও কেন সেই সাক্ষাৎকার সামনে আনল না?'