
মনোজ ভার্মা
শেষ আপডেট: 19 February 2025 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরাকাণ্ড নিয়ে আপাতত যে তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে তাতে এটা স্পষ্ট হয়নি যে ঘটনাটি খুন না আত্মহত্যা। তবে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। এখন তাঁরা অপেক্ষা করছেন মৃতদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য। আশা করা হচ্ছে, সেই রিপোর্টই অনেক কিছু পরিষ্কার করে দেবে।
বুধবার সকালেই ট্যাংরার ঘটনাস্থলে গেছিলেন সিপি। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে তবে তাঁরা কতটা ঠিক বলছেন বা ভুল বলছেন, সেটাও তদন্তসাপেক্ষ। পরে দুপুরের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বাইপাসের দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের বাকি সদস্য যারা আহত হয়েছেন তাদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। তবে যেহেতু তাঁরা বর্তমানে অসুস্থ তাই এখনই এই কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা করা হবে বলে জানান সিপি।
পরিবারের যে সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা এবং একজন নাবালিকা। সিপি জানান, তিনটি আলাদা ঘরে তিনজনের দেহ মিলেছিল। দুই মহিলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। হাতের শিরা দুজনেরই কাটা, তবে একজনের গলায় ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছিল, কিশোরীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তবে পরে জানা যায়, তার ঠোঁট এবং নাকের নীচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কীভাবে তা হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই খুনের তত্ত্ব সামনে আসছে।
পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশকে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সকলে একসঙ্গে পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ওই তিনজন হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁরাও গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন আত্মহত্যা করবেন বলেই। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ট্যাংরার ওই বাড়ি থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। এদিকে যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে তাতে নাবালক সহ দুই ভাইকে স্বাভাবিক ছন্দেই গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে।
যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে এক ভাই বেরিয়ে গ্যারেজ খুলে গাড়ি বের করেন। তারপর আবার গ্যারেজের দরজা বন্ধ করে গাড়িতে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে ওই নাবালক বেরোয়। তার হাঁটা দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে বটে। তবে তৃতীয় জন অর্থাৎ আরেক ভাইয়ের সিসি ফুটেজে হাঁটাচলা দেখেও অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। তিনজনই ওই গাড়িতে ওঠেন এবং বেরিয়ে যান।
যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের নাম রোমি দে, সুদেষ্ণা দে এবং প্রিয়ম্বদা দে (নাবালিকা)। আর আহতরা হলেন প্রণয় দে, প্রসূন দে এবং প্রতীপ দে (নাবালক)।