
কাউন্সিলর শচীন সিং
শেষ আপডেট: 17 February 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারকেলডাঙায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং টাকা নিয়ে বস্তি বসানোর অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে কলকাতা পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের অভিযুক্ত কাউন্সিলর শচীন সিংকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছিল কলকাতা পুরসভার পরিষদীয় দল। সেই চিঠিরই উত্তর দিয়েছেন কাউন্সিলর।
কাউন্সিলর ওই চিঠিতে দাবি করেছেন, মেয়রের উপস্থিতিতে যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, তাঁরা কেউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাঁরা সমাজবিরোধী। যেহেতু, তাঁদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে তিনি মেয়রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং অবৈধ জলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। সেই রাগ থেকেই এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
পাশাপাশি চিঠিতে শচীন লেখেন, ওই সমাজ বিরোধী গোষ্ঠী স্থানীয় জনতাদের খেপিয়ে তুলেছিল, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুল বুঝিয়েছিল যে পুরসভা ঝুপড়ি সরাতে চাইছে। এবং দমকল দেরিতে আসায় অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এইসব ভুল বোঝানোর জন্যই ওই দিন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।"
মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে কলকাতা পুরসভার শাসক দলের মুখ্য সচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত গত বুধবার শো-কজ চিঠি পাঠান শচীনকে। আজ তার উত্তর দিয়েছেন কাউন্সিলর। উত্তরের প্রাপ্তি স্বীকার করে পুরসভার পরিষদীয় দলের তরফে জানানো হয়েছে বৈঠকে শো-কজের উত্তর নিয়ে পর্যালোচনা হবে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি আগুন লেগেছিল নারকেলডাঙার খাল পাড় সংলগ্ন বস্তিতে। পুড়ে গেছিল ৩০টিরও বেশি ঝুপড়ি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন বাসিন্দারা। অভিযোগ করেন, তোলা নিয়ে খাল পাড়ে গুদাম করেছিলেন তিনি, তার থেকেই আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি দেখতে গেলে মেয়রের সামনেই বিক্ষোভ দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, মেয়র চলে যাওয়ার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল।
রড দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা শ্লীলতাহানি, অস্ত্র সহ হামলার অভিযোগ করা হয়ে কাউন্সিলর অনুগামীদের তরফে। শুধু তাই নয়, শচীন সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের হয়েছিল। পরবর্তীতে নারকেলডাঙা থানার সামনে ধর্না দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার দিন মেয়রের উপস্থিতিতেই শচীন সিং 'চোর চোর' বলে চিৎকার শুরু করেছিল উন্মক্ত জনতা। পাল্টা স্লোগান দেন কাউন্সিলরের অনুগামীরাও। এরপরই ঘটে চেয়ার ভাঙা, ধাওয়া করা, হাতাহাতির মতো ঘটনা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নারকেলডাঙা থানায় দু'টি অভিযোগ দায়ের হয়।