
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 April 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি গেছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সেই চাকরিহারারা নেতাজি ইনডোরে (Netaji Indoor Stadium) আজ সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে। ইতিমধ্যে নেতাজি ইনডোরে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও। এদিকে সকাল থেকে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ওই চত্বরে তার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন চাকরিহারা (SSC Case Verdict)।
টাকার বিনিময়ে পাস বিক্রির অভিযোগে সকাল থেকেই উত্তেজনা বাড়ছিল নেতাজি ইনডোরে স্টেডিয়াম চত্বরে। দফায় দফায় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান চাকরিহারারা। রীতিমতো খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে। কিন্তু উত্তেজনা কমেনি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বেশ কয়েকজন চাকরিহারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রবিবার শহিদ মিনারের সামনে জমায়েত করে কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন চাকরিহারাদের একাংশ। শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে রাস্তা বের করতে বলেন তাঁরা। না হলে হুঁশিয়ারি দেন, ২০২৬-এর নির্বাচন কেউ লড়তে পারবেন না! তাঁদের বক্তব্য, সব রাজনৈতিক দলগুলি এখন মরা-কান্না কাঁদছে! প্রত্যেকেই বলছে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের রায় মানতে পারছেন না। যোগ্যদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তাই সকলে একসঙ্গে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুক, এটাই চান তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁরা মানতে পারছেন না কারণ শীর্ষ আদালত কীসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তাঁদের বোধগম্য হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন চাকরিহারাদের একাংশ। এমনকী তাঁরা এও বলছেন, সিবিআই-এর তদন্ত রিপোর্ট শীর্ষ আদালত গ্রাহ্য করেনি। তাহলে কী লাভ হল সিবিআই তদন্ত করে? চাকরি বাতিলের পর এই প্রশ্ন তুলেই সরব চাকরিহারারা।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের নেতাজি ইনডোরের বৈঠক যে ভীষণভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো সকলেই এসেছেন বৈঠকে যোগ দিতে। কিন্তু ভিতরে ঢোকার জন্য যে পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা নিয়েই গন্ডগোল তৈরি হয়। 'আমরা যোগ্য' লেখা পাস নিয়ে নেতাজি ইনডোরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাকরিহারাদের একাংশের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে এই পাস বিক্রি হয়েছে! মূলত তা নিয়ে সকাল থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।