দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের ধাক্কায় কলকাতা ও শহরতলির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর তার পুনর্গঠনে বিলম্ব নিয়ে সিইএসসি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, "সিইএসসি সিপিএম জমানার চুক্তি। রাজ্য সরকারকে দোষ দেবেন না!" আজ বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি অফিসারদের দেখতে বলেছেন যাতে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের এলাকা বাড়ানো যায়। তারপরই অনেকের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে, তাহলে কি সিইএসসির এলাকায় কোপ পড়তে চলেছে?
এদিন মুখ্যমন্ত্রী উমফান বিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই মমতা বলেন, "এসইডিসিএল-এর (রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ) ব্যবসা তো বাড়াতে হবে। ওরা এমনিতেই লসে রান করছে। পরিধি যাতে বাড়ায় সেটা দেখতে বললাম।"
এ ব্যাপারে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সিইএসসির এলাকা কমবে এই কথা আগে এ ভাবে বলা যায় না। মুখ্যমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন, এরপর আলোচনা হবে। তারপর বিষয়টি পরিণতি পাবে।" তবে মুখ্যমন্ত্রী যে পর্ষদের পরিধি বাড়ানোর কথা বলেছেন তা বিদ্যুৎমন্ত্রী জানেন না বলেই জানিয়েছেন।
রাসবিহারীর বিধায়ক আরও বলেন, রাজ্যে এখন চারটি এজেন্সি বিদ্যুৎ বন্টন করে। বিদ্যুৎ পর্ষদ ও সিইএসসি ছাড়াও দুর্গাপুরে ডিভিসি এবং আসানসোলে আইটিসিএল বিদ্যুৎ বন্টন করে।
সিইএসসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কাকদ্বীপ যাওয়ার দিন এও বলেন, "এখন কী করব? অ্যারেস্ট করব? সেটা করলে তো আরও কাজে দেরি হবে।" সে সময়ে শহর কলকাতা নাগরিক বিক্ষোভে কার্যত ফুঁসছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ভিক্টোরিয়া হাউস। সিইএসসি-র জনসংযোগ আধিকারিক জয়নীল মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তাঁর এক্তিয়ার নেই এ ব্যাপারে কিছু বলার। তাহলে কে বলবেন? জয়নীলবাবু বলেন, সংস্থার মুখপাত্র অভিজিৎ ঘোষ বলতে পারবেন। যোগাযোগ করা অভিজিৎবাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, "আমি এটা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। আপনি বরং জয়নীল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।" তাঁকে বলা হয়, জয়নীলবাবুর পরামর্শেই তাঁকে ফোন করা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্ন লিখে পাঠাতে। সন্ধে ছ'টা পঞ্চাশে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ করা হয়। মেসেজ দেখেও রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কোনও উত্তর তিনি দেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।