১৩ দেশের কবি, ১৬ ভাষার কবিতা, নতুন বই প্রকাশ আর নদীর বুকে সমাপনী—শেষ হল অষ্টম চেয়ার পোয়েট্রি ইভনিংস, কলকাতার আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 5 December 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কবিতার ভাষায় সহমর্মিতা, মানবিকতা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য—এই সবকিছুকে একত্রে বুনে শেষ হল অষ্টম চেয়ার পোয়েট্রি ইভনিংস, কলকাতার আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব। ২৮ নভেম্বর ভারতীয় ভাষা পরিষদের অডিটোরিয়ামে পর্দা ওঠা এই উৎসব তিন দিনে জুড়ে রঙিন করে তুলেছিল শহরের বিভিন্ন প্রান্ত, যেখানে ১৩টি দেশের কবিরা ১৬টি ভাষায় শোনালেন তাঁদের কবিতা।
উদ্বোধনী সন্ধ্যার শুরুতেই দর্শকরা মুগ্ধ হন উর্মি চৌধুরী, সোহিনী মুখোপাধ্যায় ও প্রজ্ঞা দত্তের লোক–সঙ্গীত ও ফিউশন পরিবেশনায়। তারপর ধারাবাহিকভাবে মঞ্চে উঠে আসেন বিশ্বজোড়া কবিরা—সুজান রিচ, সাইমন আরমিটেজ, মোনা আরশি, সাশা ডেবেভেক-ম্যাককেনি, বিভাস রায়চৌধুরী, মাদারা গ্রুন্টমানে, এফে দুয়ান, মেলানি লেব্লঁ, রাকা দাশগুপ্ত, পিটার ভেরহেলস্ট, গুরতেজ কোহরওয়ালা, লরা জিওর্ডানি, শিরীষ মৌর্য, জ্যোতি শোভা, বাসিলিও বেলিয়ার্ড, ফিলিপ জুয়ারিস্তি, কিরা ওয়ুক, জনাকি রায়, মীনাক্ষী পাটিল এবং রাকেল সান্তানেরা।

প্রতিটি কবিতার পর ইংরেজি অনুবাদও পরিবেশিত হয়, যাতে বহুভাষিক শ্রোতারাও অনুভব করতে পারেন বিশ্বকাব্যের বৈচিত্র্য।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে স্যামিলটন হোটেলের ক্লাউড ট্যাভার্নে আমন্ত্রিত কবিদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সেদিনই চেয়ার পোয়েট্রি বুকস-এর দুটি নতুন বই প্রকাশিত হয়—এফে দুয়ানের Buried History of Poverty এবং ভ্লাদিমির করকুনভের Lost and Recovered Light।

৩০ নভেম্বর নদীর ওপর ক্রুজে ভেসে ওঠা সমাপনী অনুষ্ঠান উৎসবটিকে আরও মোহময় করে তোলে—জলের ওপর সন্ধ্যার আলো আর কবিতার সুরে যেন শেষ দিনের ক্লান্তিও মিলিয়ে যায়।
গত আট বছরে চেয়ার পোয়েট্রি ইভনিংস ৩০টিরও বেশি দেশের কবিদের স্বাগত জানিয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথ কলকাতার উৎসবটিকে ভারতের বিশ্বকবিতার অন্যতম বড় মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
উৎসব–পরিচালক তুষার ধবল সিংহ বলেন, “কবিতা নীরব প্রতিবাদের ভাষা—হিংসা ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ের স্বর। এই উৎসব সেই বহুমাত্রিক মানবিকতাকে সম্মান জানায়, স্মরণ করিয়ে দেয় যে অস্থিরতার সময়েও মানুষের মনে কবিতার সুর থেমে থাকে না।”

উৎসবের আরেক পরিচালক সনেট মণ্ডল যোগ করেন, “যখন যুদ্ধ আর সংকুচিত স্বাধীনতার ছায়া বিশ্বজোড়া, তখন কবিতা মানুষের আশ্রয়। কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই সংলাপকে বাঁচিয়ে রাখে, আর এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা কল্পনার শক্তি ও মানবিক বন্ধনের ওপর নতুন করে বিশ্বাস স্থাপন করতে চাই।”