
ছবি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া
শেষ আপডেট: 19 February 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইপাসের দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাঁদের সঙ্গে ট্যাংরার ঘটনায় মৃতদের পারিবারিক যোগ মিলেছে। পুলিশের কাছে আহতরা দাবি করেছেন, তাঁরা সকলেই আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্যাংরার বাড়িতে তিনজন হাতের শিরা কেটে নিজেদের শেষে করেছেন, তাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন আত্মহত্যা করতে! তবে বাড়ির সামনের যে সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে তা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না যে কেউ আত্মহত্যা করার জন্য বেরিয়েছেন।
ই এম বাইপাসে যে গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে দুই পুরুষ ছাড়াও এক নাবালক ছিল। ওই দুই পুরুষ সম্পর্কে দুই ভাই, প্রণয় এবং প্রসূন দে। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছেন, পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন পরিবারের সকলে। তারপর তিনজন হাতের শিরা কাটেন এবং তাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে কাউকে দেখে মনেই হচ্ছে না তাঁরা ঘুমের ওষুধ খেয়ে বেরিয়েছেন!
যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে এক ভাই বেরিয়ে গ্যারেজ খুলে গাড়ি বের করেন। তারপর আবার গ্যারেজের দরজা বন্ধ করে গাড়িতে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে ওই নাবালক বেরোয়। তার হাঁটা দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে বটে। তবে তৃতীয় জন অর্থাৎ আরেক ভাইয়ের সিসি ফুটেজে হাঁটাচলা দেখেও অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। তিনজনই ওই গাড়িতে ওঠেন এবং বেরিয়ে যান।
এই ইস্যুতে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে তবে তাঁরা কতটা ঠিক বলছেন বা ভুল বলছেন, সেটাও তদন্তসাপেক্ষ। সিপি এও বলেন, মৃতদের দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে তবে কিশোরীর শরীরে তেমন কোনও চিহ্ন নেই। একতলার তিনটি আলাদা ঘরে তিনজনের দেহ মিলেছিল। একজনের হাত ছাড়াও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সিপির কথায়, এই ঘটনার আসল কারণ কী, কারা করেছে, অন্য কেউ জড়িত কিনা, সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই এখনই এটা বলা মুশকিল যে এই ঘটনা আত্মহত্যা নাকি খুনের। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু জিনিসও উদ্ধার হয়েছে। একটি ছুরিও মিলেছে। অনুমান, তা দিয়েই হাতের শিরা কাটা হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে এখনই আর বাড়তি কিছু বলবেন না বলে জানান মনোজ ভার্মা।