বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ। পরে নিম্ন আদালতের নির্দেশে অভিযোগ দায়ের করা গেলেও পুলিশ কোনও তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি বলে দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 July 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বিশেষভাবে সক্ষম (Specially Abled) ব্যক্তি তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthasathi Card) ব্যবহার করতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হলেন। আর এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৩ জুন। বারাসতের বাসিন্দা আইনজীবী গৌরাঙ্গ পাল যিনি বিশেষভাবে সক্ষম, তিনি স্ত্রীর কিডনির জটিল সমস্যা হওয়ায় ভর্তি করেন নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতালে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে। অভিযোগ, কার্ড দেখানোর পর প্রথমে রোগীকে ভর্তি করে নিলেও কয়েকদিন পর হাসপাতাল (Hospital) কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় পরিষেবা মিলবে না।
এই খবরে কার্যত ভেঙে পড়েন গৌরাঙ্গবাবু। শেষমেশ স্ত্রীকে ১২ জুন নারায়ণ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে বেলভিউ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন তিনি। কিন্তু তার পরেও নারায়ণ হাসপাতাল থেকে মোটা অঙ্কের বিল পাঠানো হয়। অভিযোগ, পরিষেবা না দিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকার বিল চাওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ। পরে নিম্ন আদালতের নির্দেশে অভিযোগ দায়ের করা গেলেও পুলিশ কোনও তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি বলে দাবি করেন গৌরাঙ্গবাবু।
ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ যেমন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনই বেসরকারি হাসপাতালগুলির একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানছে না। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে জটিলতা এবং প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, কিন্তু তাতে বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না বলেই দাবি তাঁর।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন গুরুতর অভিযোগে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণে রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।