
ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 3 July 2024 13:52
একটু বৃষ্টি হলেই কলকাতার বহু রাস্তা এখনও জলে ডুবে যায়। তার মধ্যে উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি চত্বর যেন কিম্বদন্তি হয়ে আছে। সেই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির কাছে এবার কলকাতা পুরসভা পাম্পিং স্টেশন তৈরি করছে। যাতে বৃষ্টির জল দ্রুত পাম্প করে বের করে দেওয়া যায়।
সে ভাল কথা। কিন্তু মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সমস্যা হয়েছে অন্য। ওই পাম্প স্টেশন কার নামে নামকরণ করা হবে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নামে, নাকি রাজা রামমোহন রায়ের নামে?
স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন সুভাষ চন্দ্র বসু। ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সাল—মাত্র এক বছরই মেয়র ছিলেন নেতাজি। কিন্তু সেই স্বল্প মেয়াদেও অনেক কিছুই করার চেষ্টা করেছিলেন। একবার ভারী বৃষ্টিতে ঠনঠনিয়ায় জল জমেছিল। সেই জল নামাতে নেতাজি নিজেই নাকি গামবুট পরে পুরসভা থেকে হেঁটে ঠনঠনিয়া পৌঁছে গিয়েছিলেন। জল অবশ্য নামাতে পারেননি।
পুর কর্তারা জানাচ্ছিলেন, পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায় যে নেতাজির ইচ্ছে ছিল ঠনঠনিয়ার জল জমার স্থায়ী সমাধান করা। সে জন্য কী কারিগরি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা যায় সে ব্যাপারেও খোঁজ শুরু করেছিলেন তিনি।
সুতরাং এতদিন পর ঠনঠনিয়ায় যখন পাম্পিং স্টেশন হচ্ছে, তখন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নামে তা নামকরণ করাই যায়। সেটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে বলে ছোট লালবাড়ির একাংশ কর্তার মত। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও সেই প্রস্তাবে সম্মত ছিলেন।
কিন্তু যেখানে পাম্প স্টেশন তৈরি হচ্ছে সেই রাস্তা আবার রাজা রামমোহন রায়ের স্মরণে তৈরি। রামমোহন রায়ের উত্তরসূরিদের দাবি ওই পাম্প স্টেশনের নামকরণ বাংলার নবজাগরণের পথিকৃতের নামেই করতে হবে। তাঁদের মতে, উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি এলাকা যত না নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত তার তুলনায় অনেক বেশি রামমোহনের স্মৃতি মাখা।
তবে এহেন নাম-ধন্ধে পাম্পের কাজ বন্ধ নেই। শিলান্যাসের পর পাম্পিং স্টেশন তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। পুরসভার এক কর্তার কথায়, বর্তমান জমানায় নাম-সমস্যার সমাধানের একটাই পথ খোলা রয়েছে। মনে হয় না বর্তমান মেয়র সাহেব নাম বিতর্কে জড়াতে চাইবেন। শেষমেশ এই বল গড়াবে নবান্ন পর্যন্ত। হয়তো মুখ্যমন্ত্রীই ঠিক করে দেবেন কার নামে হবে পাম্পের নামকরণ।