
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 April 2024 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৭ মার্চ মধ্যরাতে গার্ডেনরিচের নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারপরই সামনে এসেছে বেআইনিভাবে গজিয়ে ওঠা একাধিক বহুতল নির্মাণের প্রসঙ্গ। সেই সূত্রেই সল্টলেকের শান্তিনগরে একটি পাঁচ তলা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
আদালতের নির্দেশে এপ্রিলের গোড়ায় ওই বহুতলের জল ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেছিল পুরসভা। সূত্রের খবর, এখনও ওই বহুতলে কিছু বাসিন্দা রয়েছেন। প্রবল দাবদাহে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম সমস্যার মধ্যে থা্কা বাসিন্দারা এ ব্যাপারে সাময়িক অনুমতির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
এদিন মানবিক কারণে তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও বেআইনি নির্মাণ ইস্যুতে আদালত যে কঠোর অবস্থান থেকে নড়বে না, তা আরও একববার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।
আবেদনকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন,"এই প্রবল গরমে যারা এখনও ওখানে রয়েছেন, তাঁদের কষ্ট বুঝতে পারছি। তাই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলাম। কিন্তু আবারও বলছি, ওই বিল্ডিং ভাঙা হবেই। তাই এখনই অন্যত্র সরে যান।"
ওই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল আগেই। গত বছর অক্টেবর মাসে নির্মাণটি ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু পুজোর মরশুম হওয়ায় পরে নির্মাণটি ভাঙার নির্দেশ থেকে পরে সরে আসেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। নির্দেশ ছিল উৎসবের মরশুম কেটে গেলে নির্মাণটি ভেঙে ফেলতে হবে।
তারপর বিষয়টি কার্যকর করতে বৈঠকে বসে বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় যে ওই বেআইনি নির্মাণটিতে অনেক দরিদ্র মানুষের বাস। তাই মানবিকতার খাতিয়ে নির্মাণটি না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল এই মামলার শুনানিতে পুরসভার ওই রিপোর্ট দেখে রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালতে তাঁর পর্যবেক্ষণ, "গরিব বলে কি তাঁদের প্রানের মূল্য নেই?"
দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি সিনহা জানিয়েছিলেন, ওই বেআইনি নির্মাণটি ভেঙে ফেলতে হবে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদকেও ওই বহুতলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিধাননগর পুরসভাকে জলের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।