সোমবার শুনানিতে শাহজাহানের আইনজীবীর সওয়ালে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। এক পর্যায়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আপনার বক্তব্যে আদালতের প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর নেই।

শেখ শাহজাহান
শেষ আপডেট: 28 July 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের ৮ জুন সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) তিন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের (CBI) নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ শাহজাহান (Sheikh Shajahan) মামলা করেন ডিভিশন বেঞ্চে। সোমবার সেই মামলার শুনানি শেষে রায়দান আপাতত স্থগিত রাখল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শ্যামল সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
সোমবার শুনানিতে শাহজাহানের আইনজীবীর সওয়ালে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। এক পর্যায়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনার বক্তব্যে আদালতের প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর নেই। যেখানে সিঙ্গল বেঞ্চ রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আপনার মক্কেলের যুক্ত হওয়া অপ্রয়োজনীয়, সেখানে আপনার এই আবেদন করার এক্তিয়ার কী?”
জবাবে আইনজীবীর যুক্তি ছিল, দেবদাস মণ্ডল খুনের মামলায় তাঁর মক্কেল অভিযুক্ত। তবে আদালতের পাল্টা প্রশ্ন, “হতে পারে, কিন্তু সেটা তো আলাদা মামলা। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ কোথায়?”
শাহজাহানের পক্ষে আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে অভিযুক্ত করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও মামলার আবেদনকারীরা কেন তাঁকে মূল মামলায় যুক্ত করেননি? জবাবে পরিবারের তরফের আইনজীবী বিলদ্বল ভট্টাচার্য জানান, “সিঙ্গল বেঞ্চ তার রায়ে জানিয়েছে, তদন্তে অভিযুক্ত থাকলেও এই মুহূর্তে তাঁকে আলাদা করে শুনানি ডাকার প্রয়োজন নেই। ট্রায়ালের সময় তিনি নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন।”
বিলদ্বলবাবু আরও জানান, ২০১৯ সালের ওই ঘটনায় সিআইডি তদন্তে প্রথমে শেখ শাহজাহানের নাম থাকলেও ২০২২ সালের চার্জশিটে তা বাদ দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালে ফের একটি নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ার পর অতিরিক্ত চার্জশিটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করে সিআইডি।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার মামলার রায়দান স্থগিত রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী অপরিচিত কেউ নন, পরিচিত অভিযুক্ত। তাই মামলায় তাঁর ভূমিকা ঘিরে জট কাটাতে আরও বিচার প্রয়োজন।