বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (Vice Chancellor) শান্তা দত্তর সঙ্গে অভিরূপের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব 'সেন্সর' সিদ্ধান্তের মূলে, এমনটাই খবর সূত্রের। ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বাতিল না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিরূপ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেওয়া হবে।’ সহায়তাকারী আধিকারিকদের প্রতিও ছিল তীব্র আক্রমণ।

নাম না করে শান্তা দত্তকে কটাক্ষ ব্রাত্যর!
শেষ আপডেট: 13 September 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী উপাচার্য শান্তা দত্তর (Shanta Dutta) একের পর এক সিদ্ধান্ত ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে টিএমসিপি নেতা অভিরূপ চক্রবর্তীকে কুমন্তব্যের অভিযোগে সেন্সর করা হয়েছে। এনিয়ে কথা বলতে গিয়েই ফের একবার প্রকাশ্যে এল উপাচার্য-শিক্ষামন্ত্রী 'দ্বন্দ্ব'।
সাংবাদিকদের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সেন্সর করার সিদ্ধান্তকে 'প্রতিহিংসা' বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, 'আমি জানি না ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একজন ছাত্রকে এভাবে সেন্সর করা যায় কি না।' কার্যত অভিযোগের সুরে আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং প্রায় শেষ। ছাত্রদের ধরে ধরে টার্গেট করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিহিংসা মেটানো, এটা খুবই দুশ্চিন্তার ও কলঙ্কের।'
এখানেই শেষ করেননি! নাম না করেই শান্তা দত্তকে 'কাক' বলেও কটাক্ষ করেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, 'কাক ময়ূরপুচ্ছ পরে নিলেই ময়ূর হয়ে যায় না। কাক কাকই থাকে। ছাত্ররা কাকের ঠোকর খাচ্ছে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (Vice Chancellor) শান্তা দত্তর সঙ্গে অভিরূপের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব 'সেন্সর' সিদ্ধান্তের মূলে, এমনটাই খবর সূত্রের। ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বাতিল না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিরূপ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেওয়া হবে।’ সহায়তাকারী আধিকারিকদের প্রতিও ছিল তীব্র আক্রমণ।
তারপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সিদ্ধান্ত— প্রশাসনিক বা অ্যাকাডেমিক কোনও কর্মসূচিতে অভিরূপের অংশগ্রহণে রাশ টানা হবে। এমনকি তাঁর পিএইচডি আবেদনপত্রও এবার খুঁটিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
নির্দেশ দেওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্ত কার্যক্রম থেকে আপাতত বিরত থাকতে হবে তাঁকে। পিএইচডি-র আবেদনপ্রার্থী হিসেবে যাঁর নাম ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত, সেই অভিরূপকে প্রাথমিক পর্বেই এমনভাবে সেন্সর করা রীতিমতো নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি আরও এক ঘটনায় শিরোনামে উঠে এসেছিলেন কলকাতার উপাচার্য। ২৮ অগস্ট, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনই পরীক্ষা রাখা হয়েছিল। এনিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। যদিও শেষ অবধিও তারিখ বদলানো হয়নি। ওইদিনেই পরীক্ষা দিয়েছেন পড়ুয়ারা।
সেন্সর বিতর্ক উপাচার্য বলেন, 'আশা করেছিলাম কুমন্তব্যের জন্য দলের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়া হবে। দিন চলে গেলেও কোনও সেন্সর করা হল না। উপরন্তু কিছু কিছু জায়গায় গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বেশ কিছু কথা বলেন। ওনার মান যে এত নীচে নেমে যাবেন, কল্পনা ছিল না।'