
শেষ আপডেট: 3 April 2024 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৭ মার্চ মধ্যরাতে গার্ডেনরিচের নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্য়ন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বেআইনি নির্মাণ ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা।
সল্টলেকের একটি বেআইনি নির্মাণ আগেই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই নির্মাণ ভাঙা হয়নি, তা নিয়ে এদিন বিচারপতির প্রশ্নের মুখে পড়ে পুরসভা। সূত্রের খবর, পুরসভার তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, ওখানে বহু গরিব মানুষ রয়েছে, তাই নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁদের উচ্ছেদ করা যায়নি।
বিধাননগর পুরসভার এমন যুক্তিতে রীতিমতো তাজ্জব কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার পুরসভাকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি অমৃতা সিনহার পাল্টা প্রশ্ন, "গরিব বলে কি তাঁদের প্রানের মূল্য নেই?"
খানিক থেমে ফের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন বিচারপতি, "যদি ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে পড়ে তাহলে কী করবেন?’
এহেন মন্তব্যের পাশাপাশি সল্টলেকের শান্তিনগরে একটি পাঁচ তলা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা। সেই সঙ্গে ওই বেআইনি নির্মাণে যুক্ত দুই প্রোমোটারকে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে ১ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।
ওই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল আগেই। গত বছর অক্টেবর মাসে নির্মাণটি ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু পুজোর মরশুম হওয়ায় পরে নির্মাণটি ভাঙার নির্দেশ থেকে পরে সরে আসেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। নির্দেশ ছিল উৎসবের মরশুম কেটে গেলে নির্মাণটি ভেঙে ফেলতে হবে। তারপর বিষয়টি কার্যকর করতে বৈঠকে বসে বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় যে ওই বেআইনি নির্মাণটিতে অনেক দরিদ্র মানুষের বাস। তাই মানবিকতার খাতিয়ে নির্মাণটি না ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন বিধাননগর পুর কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিচারপতি সিনহার এজলাসে সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পর রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন, ওই বেআইনি নির্মাণটি ভেঙে ফেলতে হবে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদকেও ওই বহুতলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিধাননগর পুরসভাকে জলের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।