
আর জি কর
শেষ আপডেট: 3 September 2024 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর পাঁচেক আগের কথা। শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর বড়সড় এক আক্রমণ হয়েছিল। সে সময়েই এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল রাজ্য সরকার। নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্র বসানো থেকে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরও ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে হাসপাতালের সমস্ত প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তারক্ষী-- এমন অনেক ঘোষণাই তখন সামনে এসেছিল। কিন্তু আদতেই কি সেই সবের বাস্তবায়ন হয়েছিল?
উত্তরটা এক কথায়, 'না'। বর্তমানে আরজি কর কাণ্ডে এই প্রশ্ন যখন উঠেছে নতুন করে, তখন স্পষ্ট দেখা গেছে, এই ঘোষণা মতো কোনও ব্যবস্থাই কার্যকর করা হয়নি। আরজি করও তার ব্যতিক্রম নয়। ৯ অগস্ট সেখানেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার মতো অভিযোগ ওঠে হাসপাতালেরই এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। এর পরেই সামনে এসেছে, হাসপাতালে নাকি মাত্র দু'জন নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে কাজ চালানো হত। সিসিটিভি যে ক'টা আছে, তাতে গোটা হাসপাতাল চত্বর কভার করা সম্ভবই নয়।
তিলোত্তমার মৃত্যুর পরে এই সব নিয়েই সরব হয়েছেন তার সতীর্থ ও জুনিয়র ডাক্তাররা। এই প্রসঙ্গেই হাসপাতালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি ড. শ্রেয়া সাউ বলেন, 'একদিন রাত ৩টে নাগাদ রেস্ট রুমে ঢুকে দু'জন অচেনা মানুষ তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তুলেছে। দরজায় কোনও লকও ছিল না। ভয়ঙ্কর ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। চোখ খুলতেই দেখি অন্ধকারে দুজন অচেনা মানুষ মুখের সামনে দাঁড়িয়ে। ওঁরা হাসপাতালেরই রোগী ছিলেন। অবাক হয়ে গেছিলাম যে কীভাবে দু'জন রোগী স্টাফেদের রেস্ট রুমে ঢুকে পড়েন কোনও বাধা ছাড়াই।'
সেইরকমই, সেমিনার হলের দরজাগুলোতেও কোনও লক ছিল না, যেখানে সেই রাতে ৩৬ ঘণ্টা টানা ডিউটির মাঝে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। এমনকী এসিও অকেজো ওই ঘরে, এমনটাই জানাচ্ছেন হাসপাতালের দুই জুনিয়র ডাক্তার। তাঁরা নিজেরাও বিশ্রাম নিতে ওই ঘরেই যান।
২০১৯ সালের ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেসব নিয়মাবলি বেঁধে দিয়েছিলেন, তা যদি সত্যিই কার্যকর করা যেত, তাহলে হয়তো আরজি করে এমন কিছু ঘটত না, আক্ষেপের কথা জানাচ্ছেন নির্যাতিতার একসময়ের সতীর্থ তথা আর এক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি রিয়া বেরা।
২০১৯ সালের প্রস্তাবগুলি কেন বাস্তবায়িত হয়নি, সেই নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব এনএস নিগম জানান, মাঝে দু'বছর কোভিডের কারণে সেভাবে কাজ সম্পূর্ণ করা না গেলেও ২০২১-এর পরে অনেক কাজই হয়েছে। সিসিটিভি কভারেজ শক্তিশালী করা থেকে হাসপাতালে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'বাকি কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এই ঘটনার পরে সব ফাঁকফোকর দ্রুত পূরণ হবে।'
হয়তো সত্যিই সেসব হবে। এই ঘটনার পরে ২৮ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণাও করেছেন, ১০০ কোটি টাকার উপরে খরচ করে হাসপাতালে পর্যাপ্ত আলো, বিশ্রামাগার ও মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। কিন্তু এসব যাই হোক না কেন, তার আগে চলে গেছে নির্যাতিতার প্রাণ। এটাই আফশোস সতীর্থদের।