
শেষ আপডেট: 2 October 2024 15:44
অভিশপ্ত পে লোডারে থাকা চারজনই মদ্যপ ছিলেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাঁশদ্রোণীতে নিহত ছাত্রের গৃহশিক্ষক সন্তোষ রায়। মঙ্গলবার সকালে তাঁরই বাড়িতে পড়তে যাওয়ার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ক্লাস নাইনের ছাত্র সৌম্য শীলের। তাঁর বাড়ির একেবারে সামনে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিজের হাতে প্রিয় ছাত্রকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে রওনা করান মাস্টারমশাই। তারপর ভেঙে পড়েন কান্নায়।
মহালয়ার ভোরে টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্য়ু হয় নবম শ্রেণির ছাত্র সৌম্য শীলের। মাস্টারমশাইয়ের বাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছতেই এলাকার রাস্তা সারাইয়ের জন্য আসা মাটি কাটার যন্ত্রের গাড়ি (জেসিবি) একটি গাছের সঙ্গে পিষে দেয় তাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই লুটিয়ে পড়ে ওই ছাত্র। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ওই ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে মানুষ নেমে আসেন রাস্তায়। তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। ক্ষোভ সামাল দিতে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ পৌঁছলে, পুলিশকে ঘিরেও শুরু হয় বিক্ষোভ।
প্রিয় ছাত্রের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা সৌম্যর গৃহশিক্ষক সন্তোষবাবু। তিনি বলেন, "সকালবেলা যখন দরজা খুলেছি, তখন আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল পে লোডারটি। যে চারজন বসেছিল, তাদের প্রত্য়েকেই মদ্যপ ছিল বলে আমার ধারণা। একটু পড়েই বিকট শব্দ শুনি। হইচই কানে আসে। ছুটে গিয়ে দেখলাম সৌম্যকে ধাক্কা মেরেছে গাড়িটি। সঙ্গে সঙ্গে ওকে কোলে করে তুলে হাসপাতালের পথে রওনা করিয়ে দেই।"
তিনি জানান, ভাল ছাত্র ছিল সৌম্য। যতদিন যাচ্ছিল ততই ধার বাড়ছিল মেধার। তাঁর কথায়, "ক্লাস এইট পর্যন্ত তেমন ভাল রেজাল্ট না করলেও, ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকেই বদলে গেছিল সে। ক্লাসের প্রথম দুটো পরীক্ষাতেই নম্বরে সবাইকে পিছনে ফেলে দেয়। আমার খুব আশা ছিল ওকে নিয়ে। এই মুহূর্তে আমার কোচিংয়ের সেরা ছাত্র ছিল সৌম্য। ও আর পড়তে আসবে না এটা মেনে নিতে পারছি না।"
তিনি জানান, খুবই অভাবী পরিবারের সন্তান ছিল সৌম্য। তার বাবা রিক্সা চালান। মা সামলান ঘর। ছোট ভাই রয়েছে তার।
সন্তোষবাবু বলেন, "কষ্ট করে এগোতে হবে, এটা খুব ভাল বুঝতে পেরেছিল সৌম্য। সেভাবে তৈরি করছিল নিজেকে। ওকে ঘিরে শুধু ওর বাবা-মাই নন, স্বপ্ন দেখতাম আমিও। আমার আশা ছিল অনেক বড় জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব ওকে।"
কথা বলতে বলতেই চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল জল। ছাত্রের মৃত্যুর খবরে তখন তেতে উঠেছে বাঁশদ্রোণী। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মানুষ। ঘরে বসে প্রাণপণে তখন কান্না চাপার চেষ্টা করছেন গৃহশিক্ষক সন্তোষ রায়। প্রিয় ছাত্রকেই যে হারিয়ে ফেললেন তিনি।