
বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার
শেষ আপডেট: 30 May 2024 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহের কুচি কুচি করে কাটা অংশের কিছুটা অবশেষে পাওয়া গেল। একটু ফুল স্কেপ কাগজ কুচি কুচি করে কাটার পর যেমন জোড়া মুশকিল। এরও তাই অবস্থা। আপাত নজরে বোঝা যাবে না, কোথাকার মাংস। মাথার না ধরের। নৃশংস, পাশবিক বললেও কম বলা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে নিউ টাউন থানার সঞ্জীবা আবাসনের বিইউ-৫৬ ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে একটা পলিথিনে জড়ানো অবস্থায় এই দেহাংশ পেয়েছেন সিআইডির গোয়েন্দারা। ওজনে প্রায় ৪ কেজি। এই মাংসের টুকরো এবার ফরেনসিকের জন্য পাঠানো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং আবাসনের নিকাশি ব্যবস্থার কর্মী সিদ্ধেশ্বর মণ্ডল জানিয়েছেন, একটি কাঁচের জারে নুন মিশ্রিত জলে মাংসগুলি রাখা হয়েছে। অনেকটা পকোড়ার মতো দেখতে ছিল সাংসদের দেহাংশ। এই মাংসের অংশগুলি ঘাতক কসাই জিহাদ হাওলাদার ওয়াশরুমের কমোডে ফেলে দিয়েছিল বলে জানতে পেরেছিলেন তদন্তকারীরা।
কোনওভাবে দেহাংশ পাইপ বা বাথরুমে ফ্ল্যাশ করে বাইরে বার করে দেওয়া হতে পারে, এমনটা আগেই সন্দেহ করেছিলেন গোয়ান্দারা। মঙ্গলবার দেহাংশের খোঁজে সাংসদ যেখানে খুন হয়েছেন, সেখানকার নিকাশি পাইপ, সেপটিক ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া আবাসনের উল্টোদিকে বাগজোলা খালেও তল্লাশি চলে। দিনভর টানা তল্লাশি অভিযানের পর সেপটিক ট্যাঙ্ক ভাঙা হয়। এরপর সন্ধে নাগাদ সেই পাইপ থেকেই সাংসদের কিছু মরদেহের খণ্ডাংশ পাওয়া গেছে বলে জানায় তদন্তকারী দল।
আনোয়ারুল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রবিবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসেছে ঢাকার গোয়েন্দাদের তিন সদস্যের দল। মঙ্গলবারও সিআইডির সঙ্গে তদন্ত চালান বাংলাদেশ পুলিশের আধিকারিকরা। তদন্তের গতিপ্রকৃতির উপর আস্থা রয়েছে বলে এদিন জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান হারুন রশিদ। একইসঙ্গে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধানের অনুরোধ করেন, যে আবাসনে সাংসদ ছিলেন, সেখানকার বাথরুমের কমোডের ফ্রাশের নিকাশিও যেন পরীক্ষা করে দেখা হয়। গোয়েন্দাদের সন্দেহ ছিল, বাথরুমে গিয়ে ফ্লাশ করা হয়ে থাকতে পারে সাংসদের দেহের টুকরোগুলি।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান হারুন রশিদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘তদন্ত ঠিক পথে এগোচ্ছে। আমরা এখনও দেহাংশ উদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদী। সিআইডিকে আমরা হাতিশালা কাঠের ব্রিজ লাগোয়া এলাকায় তল্লাশি চালানোর জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের হাতে ইতিমধ্যে যা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তাতে এই এই অপরাধীদের সাজা দিতে বেগ পেতে হবে না।’
বাংলায় এসে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ার উল আজিম! শুধু খুনই নয়, কসাই দিয়ে গোটা দেহ থেকে চামড়া ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছে। এরপর দেহাংশ ট্রলি ব্যাগে করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনাই পরিল্পনামাফিক বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। কলকাতায় বাংলাদেশের সাংসদ খুনের ঘটনায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাংসদ খুনে পলাতক ৪ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। সিআইডি সূত্রের খবর, মূল অভিযুক্ত আখরাউজ্জামান ছাড়াও সিয়াম, মুস্তাফিজুর রহমান ও ফয়জলের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি হয়েছে। দেশের যে কোনও বন্দর বা বিমানবন্দরে দেখা গেলেই এদের আটক করতে নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডি কর্তারা।