
শেষ আপডেট: 17 June 2021 13:39
এই পরিস্থিতি নাগরিক জীবনের জলযন্ত্রণার ছবিটা খুব স্পষ্ট। দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার একাধিক এলাকায়, যেখানে সাধারণত জল জমে না, সেখানেও দেখা গেছে এক হাঁটু সমান জল। জল ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরেও। বিশেষত বস্তি ও অপেক্ষাকৃত নীচু অঞ্চলে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন মানুষ।
এ প্রসঙ্গে বেহালার জনৈক বাসিন্দার কথায়, 'আজন্ম শুনে আসছি, আকাশে মেঘ করলেই নাকি বেহালায় জল জমে। কিন্তু এখানকার বাসিন্দা হিসেবে অভিজ্ঞতা একেবারে তেমনটা নয়। একটানা বৃষ্টিতে জল জমলেও তা বেরিয়েও যায় কিছু পরে। আর জল জমলেও তা সর্বোচ্চ এক ফুট মতো। কিন্তু কাল রাতের বৃষ্টি সে সব হিসেব ভেঙে দিয়েছে। ভোরবেলা চোখ খুলেই দেখি বারান্দা ছুঁইছুইঁ জল। বেলা বাড়তে তা বারান্দা পেরোল। ঘরে অবশ্য ঢোকেনি। অনেকটা উঁচু বাড়ি হওয়ার কারণে রাস্তায় জল হলেও বাড়ির ভেতরে ঢোকে না, কিন্তু আজ বারান্দায় ঢুকে গেছে। গ্যারেজে রাখা স্কুটির ইঞ্জিনে জল ঢুকে সেটি বিকল হয়েছে। এখন আশঙ্কা একটাই, বৃষ্টি যদি না থামে, এমনই চলতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে।'
কী বলছে প্রশাসন? এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিকদের জানান, যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে তাতে পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে। এখনই এত জল একসঙ্গে নামানোর মতো প্রযুক্তি পুরসভার কাছে নেই। তবে জলযন্ত্রণা থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। ফিরহাদ হাকিমের কথায়, 'কলকাতা একটা গামলার মতো আর আমাদের কাছে কোনও জাদুকাঠি নেই। জোয়ার আসায় নদীতে জল ছাড়া এখন বন্ধ করতে হয়েছে।'
আগামী বর্ষায় আর জল জমবে না বলেই জানিয়েছেন ফিরহাদ। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, মধ্য কলকাতায় যেখানে জল জমার রেওয়াজ রয়েছে সেখানে জল নেমে গিয়েছে। খিদিরপুর বেহালার কিছু কিছু অংশে এখনও জল রয়েছে। শিগগিরই তা নেমে যাবে।