
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 February 2025 09:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি আমাদের দেয়নি, আর দিল্লি আমাদের দেখে না... বাম জমানার ৩৪ বছরে বারবার এই বঞ্চনার স্লোগান অনুরনিত হয়েছে বাংলায়। কাট টু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানা। গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির বিরুদ্ধে বর্তমান শাসক দলের অভিযোগও তাই। একশ দিনের কাজে দু’বছর ধরে দিল্লি থেকে নয়া পয়সাও আসছে না। আবাসের টাকাও বন্ধ হওয়ায় জেদ করে দিদিই রাজ্যের কোষাগার থেকে এখন দিচ্ছেন। এহেন অবস্থায় বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের বক্তৃতায় ‘বঞ্চনার বিষয়আশয়গুলো’ স্বাভাবিক নিয়মেই জায়গা পেয়েছিল।
কিন্তু সূত্রের খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভার পাঠানো সেই বক্তৃতা টেবিল ল্যাম্পের তলায় ফেলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যখন দেখেছেন, মোটেও ভাল লাগেনি। তিনি ঘ্যাচ ঘ্যাচ করে কেটে দিয়েছেন।
প্রশ্ন হল, তাহলে কি বঞ্চনার বিষয়আশয় রাজ্যপালের বক্তৃতায় থাকবে না? রাজভবন সূত্রের দাবি তেমনই। আনন্দ বোস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনও কথাকে তাঁর বক্তৃতায় রাখবেন না।
সংসদ বা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল বক্তৃতা দেন। রাষ্ট্রপতি বক্তৃতা দেন সংসদের যৌথ অধিবেশনে। বাংলায় আইনসভার একটাই কক্ষ। তাই বিধানসভাতেই বক্তৃতা দেন রাজ্যপাল।
কিন্তু সংসদীয় প্রথা হল, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের এই বক্তৃতার বয়ান সরকার লিখে দেয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সেটাই পাঠ করেন রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত মত খাটে না। বক্তৃতায় ‘আমার সরকার’ বলেই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল।
এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বক্তৃতার সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারেন কিনা, বা করার এক্তিয়ার তাঁর রয়েছে কিনা সেও প্রশ্ন।
সরকার ও রাজ্যপাল তথা রাজভবনের মধ্যে সম্পর্ক মোদী জমানায় বেশ অনেকটাই বিগড়েছে। তা শুধু বাংলায় নয়, প্রায় সমস্ত অবিজেপি রাজ্যে তেমনই অবস্থা। রাজভবন কখনও সাংবিধানিক এক্তিয়ারের মধ্যে কখনও বা না থেকে অতি সক্রিয়। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ হল ‘অফ ফেম’-এ চলে গেছেন বলে বিরোধীদের মত। যেমন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি তো একবার মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে এড়িয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার নির্দেশও দিয়ে দিয়েছিলেন। পরে দিল্লির নর্থ ব্লকের কথা শুনে সেই নির্দেশ ফিরিয়ে নেন।
বাংলার বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সম্পর্কের শুরুটা বেশ সুরেলা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হাতেখড়ি শিখেছিলেন তিনি।
নবান্নের এক আমলার কথায়, এতদিনে হয়তো বাংলা পড়তে শিখে গেছেন আনন্দ বোস। তাই দিল্লির প্রভুর বিরুদ্ধে বাংলায় টিপ্পনি নাও ভাল লাগতে পারে। এখন দেখার তিনি সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতার কতটা পড়েন, কতটা ফেলে দেন।