
শেষ আপডেট: 11 September 2024 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ফের স্পষ্ট করল সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরাতে পরোক্ষে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কাজে ফেরানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিক্ষোভরত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশজুড়ে ফের আন্দোলনে নামতে পারেন তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হবে জুনিয়র ডাক্তারদের। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। কাজে তো তাঁরা যোগ দেনইনি, বরং পাঁচ দফা দাবি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন স্বাস্থ্যভবনের সামনে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। দাবি পূরণ না হওয়ায় রাতভরও চলে ধর্না। বুধবারও চলছে জুনিয়ার ডাক্তারদের আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতেই এবার রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলি। কাজে ফেরানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিক্ষোভরত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশজুড়ে ফের আন্দোলনে নামতে পারে তাঁরা।
ফেডারেশন অফ রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া রেসিডেন্টস অ্যান্ড জুনিয়র ডক্টরস জয়েন্ট অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পেশ করা জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে রোগী মৃত্যুর হিসেব ভুল। খুব শীঘ্রই সব রাজ্যের রেসিডেন্ট ডক্টরসরা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই ঠিক হবে পরবর্তী কর্মসূচি।
ডাক্তারদের জন্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তারই ভিত্তিতে সর্বভারতীয় স্তরে কর্মবিরতি তুলে নিয়েছিল চিকিৎসক সংগঠনগুলি। কিন্তু এখনও সেই দাবি মেটেনি বলেই সংগঠনগুলির অভিযোগ। তারউপর রাজ্যে রোগী মৃত্যুর দায়ও চাপানো হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর। এতেই বিরক্ত রেসিডেন্ট ডাক্তারদের সর্বভারতীয় সংগঠন।
সোমবার শুনানির দিন রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে সওয়াল করেছিলেন যে, জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে চিকিৎসার অভাবে রাজ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টেও তার উল্লেখ রয়েছে। এরপরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কাজে যোগ দেননি তাঁরা। এবার তাঁরা পাশে পেলেন সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলিকে।